সরস্বতী পুজোকে ঘিরে প্রস্তুতি তুঙ্গে, মূর্তি পাড়ায় চরম ব্যস্ততা

আগরতলা, ২০ জানুয়ারি: আগামী ২৩ জানুয়ারি বাগদেবী সরস্বতী মায়ের আরাধনা। বিদ্যার দেবীর এই বিশেষ তিথিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মতো এবারও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে উৎসাহ ও উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পুজো উপলক্ষে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে জোরকদমে প্রস্তুতি। সাজানো হচ্ছে পুজো মণ্ডপ, চলছে আলোকসজ্জার পরিকল্পনা, পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতেও ব্যস্ত পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

এই উৎসবকে সামনে রেখে মূর্তিপাড়াতেও চরম ব্যস্ততার ছবি ধরা পড়ছে। কাঁচা মাটি, রং-তুলি আর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় গড়ে উঠছে বাগদেবীর প্রতিমা। প্রতিবছর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়ম করে সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হয়, এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির তরফে মৃৎশিল্পীদের কাছে বেশ কিছু মূর্তির অর্ডার এসেছে।

তবে মৃৎশিল্পীদের মতে, সামগ্রিকভাবে এ বছরের পুজোর বাজার আশানুরূপ নয়। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বাড়ি ঘরে সরস্বতী পুজোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে যেখানে বহু পরিবার ঘরোয়া ভাবে বাগদেবীর আরাধনা করত, সেখানে এখন সেই সংখ্যা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে মূর্তি বিক্রির বাজারে কিছুটা মন্দার প্রভাব পড়েছে এবং লাভের সম্ভাবনাও কম বলে মনে করছেন শিল্পীরা।

এক মৃৎশিল্পী জানান, “স্কুল-কলেজে পুজো নিয়মিত হচ্ছে, সেখান থেকে কিছু অর্ডার পাওয়া গেছে। কিন্তু বাড়ি ঘরের পুজো কমে যাওয়ায় মোট অর্ডারের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেকটাই কম। তাই খরচ উঠলেও বড় লাভের আশা করা যাচ্ছে না।”

এর পাশাপাশি শীতের প্রকোপও সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর ঠান্ডার তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় রাতের বেলায় কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন শিল্পীরা। তাই তারা দিনের আলোতেই যতটা সম্ভব কাজ শেষ করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মূর্তিগুলি প্রস্তুত করা যায়।

অন্যদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। সরস্বতী পুজো মানেই ছাত্রসমাজের কাছে বিশেষ আনন্দের দিন, সেই আনন্দকে ঘিরেই এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছে সবাই।

হাতে আর মাত্র দুটি দিন। তারপরই বিদ্যার দেবীর আরাধনায় মেতে উঠবে শহর ও গ্রাম, স্কুল ও কলেজ। যদিও বাজারে কিছুটা মন্দার প্রভাব রয়েছে, তবুও উৎসবের উচ্ছ্বাস ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে— এমনটাই আশা করছেন মৃৎশিল্পী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই।

Leave a Reply