মানুষ মরছে রাস্তায়, জলে, দুর্নীতিতে—নয়ডার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুতে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ রাহুল গান্ধীর

নয়াদিল্লি, ২০ জানুয়ারি: উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় জলভরা গভীর গর্তে পড়ে ২৭ বছরের ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, দেশে শহুরে জীবনযাত্রা ভেঙে পড়ছে, অথচ সরকার কোনও জবাবদিহির প্রয়োজনই মনে করছে না।

এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ মৃত যুবকের ছবি এবং একাধিক সংবাদমাধ্যমের ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করে রাহুল লেখেন, “মানুষ রাস্তায় মরছে, ব্রিজে মরছে, আগুনে মরছে, জলে মরছে, দূষণে মরছে, দুর্নীতিতে মরছে, বিভাজনে মরছে।” তিনি আরও বলেন, “ভারতের আর্বান জীবন ভেঙে পড়ছে প্রযুক্তি বা প্রাকৃতিক সমস্যার জন্য নয়। অপদার্থ প্রশাসনের ব্যর্থতাই এর মূল কারণ। তবু এরা জবাব দেওয়ার প্রয়োজন পর্যন্ত মনে করে না।”

নয়ডার এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক অদক্ষতার দিকটি সামনে এসেছে বলে মন্তব্য করেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, সরকারের হাতে সাধারণ মানুষের জীবন নিরাপদ নয়।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাতে। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে নয়ডার সেক্টর ১৫০ এলাকায় একটি বাণিজ্যিক প্রকল্পের জন্য খনন করা প্রায় ৭০ ফুট গভীর গর্তে পড়ে যায় যুবরাজ মেহতার এসইউভি গাড়ি। গুরুগ্রামের একটি ডেটা সায়েন্স সংস্থায় কর্মরত যুবরাজ নিজেই গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তায় দৃশ্যমানতা ছিল অত্যন্ত কম।

বাঁক ঘোরার সময় রাস্তার উপর কোনও সুরক্ষা ব্যবস্থা বা সতর্কতামূলক চিহ্ন না থাকায় গাড়িটি সরাসরি কাদাজল ভরা গর্তে পড়ে যায়। মাঝামাঝি জায়গায় আটকে পড়া গাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচাতে ছাদে উঠে দাঁড়ান যুবরাজ। তবে সাঁতার না জানায় তিনি জলে নামতে পারেননি।

সেই অবস্থায় বাবাকে ফোন করে যুবরাজ বলেন, “বাবা, আমি জলভরা একটি গভীর গর্তে পড়ে গিয়েছি। আমি ডুবে যাচ্ছি। প্লিজ, এসে আমাকে বাঁচাও। আমি মরতে চাই না।” কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই গাড়িটি তাঁর ভার নিতে না পেরে সম্পূর্ণভাবে ডুবে যায়।

এই ঘটনায় উদ্ধারকাজে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে সোমবার নয়ডা প্রশাসনের সিইও এম লোকশকে বরখাস্ত করেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতা ও শহুরে পরিকাঠামোর বেহাল অবস্থার প্রশ্ন আবারও সামনে উঠে এসেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

Leave a Reply