ট্রাম্পের ‘খামেনেই উৎখাত’ মন্তব্যে পালটা হুমকি দিল ইরান, যুদ্ধের আশঙ্কা

তেহরান, ১৯ জানুয়ারি : একদিন আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সরকারকে উৎখাতের ডাক দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার জবাবে, এবার পালটা হুমকি দিল তেহরান। ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, খামেনেইয়ের উপর কোনোরকম আক্রমণ হলেই তা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হবে। অর্থাৎ, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে, আমেরিকাকে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে স্পষ্ট সতর্কতা দিয়েছে তেহরান।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরানে এখন নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে। খামেনেই দোষী, ইরানকে ধ্বংস করতে তিনি বদ্ধপরিকর। দেশে তিনি হিংসা ছড়াচ্ছেন। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ইরানে নেতৃত্ব বদলের সময় এসেছে।” এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে ‘অসুস্থ’ এবং ‘অযোগ্য’ বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এমন বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তাঁর এক্স (পূর্ববর্তী টুইটার) হ্যান্ডলে লেখেন, “যে কোনো ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা কড়া জবাব দিতে প্রস্তুত। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপর আক্রমণ হলে, তা গোটা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।”

ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও অস্থিরতার মধ্যে, সাধারণ মানুষ প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং কট্টরপন্থী ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন। মূল্যবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধার অভাবের কারণে ক্ষুব্ধ জনগণ খামেনেই সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহ শুরু করেছেন। সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, গণবিক্ষোভে অন্তত ৫,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে কমপক্ষে ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’ একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, ইরানে মৃতের সংখ্যা ১৬,০০০ ছাড়িয়ে গেছে।

ইরানের শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী বিক্ষোভকারীদের শায়েস্তা করতে যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। ইরান দাবি করেছে, খামেনেই সরকার দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে অত্যাচার করছে এবং তাদের মাথায় গুলি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, শনিবারই ট্রাম্পকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। খামেনিই বলেছিলেন, “ইরানে এত মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দেশজুড়ে হিংসা ছড়াচ্ছেন এবং প্রতিবাদকারীদের মহিমান্বিত করছেন। এই অস্থিরতার জন্য দায়ী আমেরিকা এবং ইজরায়েল।” তিনি আরও বলেন, “বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী গুলি সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করছে, এবং তাদের উসকানি দিচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেল আভিভ।”

এখন প্রশ্ন উঠছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশ কি শীঘ্রই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়বে?

Leave a Reply