আগরতলা, ১৯ জানুয়ারি : তেলিয়ামুড়া বিদ্যুৎ দপ্তরে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও শৃঙ্খলাহীনতার অভিযোগ উঠেছে। অফিসের একাংশ কর্মচারী নিয়মিত সময়মতো উপস্থিত হন না, গ্রাহক পরিষেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকারি অফিস হলেও পরিবেশ যেন একেবারেই ঢিলেঢালা এবং কর্মীরা ব্যক্তিগত স্বার্থ ও শখ পূরণের জন্য অফিসকে ব্যবহার করছেন।
ডিভিশন-১-এর জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বজিৎ বিশ্বাস অফিস চলাকালীন সময়ে নিজের মোবাইল ও ক্যামেরা নিয়ে ব্লগিংয়ে ব্যস্ত থাকেন। তিনি নিজেকে ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ বলেও পরিচয় দেন। সহকর্মীদের অভিযোগ, অফিসের প্রকৃত দায়িত্ব ফেলে ভিডিও বানানোই যেন তাঁর প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে মানিক দেব, পার্বতী নমঃ ও নীশা শীল—এই তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত উপস্থিতি, দায়িত্বে গাফিলতি ও অফিস কামাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। সোমবার সরেজমিনে অফিসে গিয়ে এই অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে রবিবার, যখন বিদ্যুৎ দপ্তরের এম.ডি-র তেলিয়ামুড়া সফরের দিন শহরজুড়ে ৪৫ মিনিট বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। সূত্রের খবর, সিনিয়র ম্যানেজার আগেই বিশ্বজিৎ বিশ্বাসকে স্টেশন লিভ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবুও তিনি ছিলেন অনুপস্থিত। স্থানীয়দের কটাক্ষ, হয়তো তখন তিনি ব্যস্ত ছিলেন নতুন ব্লগ কনটেন্ট বানাতে।
এই অনিয়মের জেরে সিনিয়র ম্যানেজার বিশ্বজিৎ বিশ্বাসকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে—শুধু শোকজই কি যথেষ্ট? নাকি এবার প্রকৃত তদন্ত ও শাস্তি হবে দায়ী কর্মীদের জন্য?
গ্রাহকরা উদ্বিগ্ন, অফিসে ঠিকমতো হাজিরা না থাকায় সময়মতো বিদ্যুৎ সংযোগ, মেরামত বা অভিযোগ নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে না। এই চিত্র সরকারি পরিষেবার প্রতি মানুষের আস্থায় বড়সড় ধাক্কা দিচ্ছে।

