নয়াদিল্লি, ১৯ জানুয়ারি : কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপির সিনিয়র নেতা সর্ভানন্দ সোনোয়ালের নামে জাল চিঠি ছড়ানোর অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ওই চিঠিতে “কোর্স কোরেকশন”-এর আহ্বান জানানো হয়েছিল, যা আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংশোধনী গ্রহণের পরামর্শ দেয়।
সোমবার, সংসদ ভবন পুলিশের কাছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের একজন কর্মকর্তা এই অভিযোগ দায়ের করেন, সোনোয়ালের নির্দেশে। এরপর বিষয়টি তদন্তের জন্য দিল্লি পুলিশের পাবলিক ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড রেগুলেটরি ইউনিটে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, চিঠিটি সোনোয়ালের অফিসিয়াল লেটারহেডে লেখা বলে দাবি করা হচ্ছে এবং এটি বিজেপির জাতীয় সভাপতি বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে অসমের “গ্রাউন্ড সিচুয়েশন”-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং নির্বাচনের আগে কিছু সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে সোনোয়াল স্পষ্টভাবে এই চিঠির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত না করার কথা জানিয়েছেন। তিনি এটি “পুরোপুরি ভুয়া এবং কল্পিত” বলে উল্লেখ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই চিঠির আমার বা আমার অফিসের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। এটি স্পষ্টভাবে প্রতারণা এবং ভুল তথ্য প্রচারের একটি ঘটনা, যা জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার এবং সাংবিধানিক কর্তৃত্বকে অসম্মান করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।”
সোনোয়াল আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলিকে বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে তদন্ত করতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি জনগণ ও মিডিয়াকে সতর্ক করে বলেন, অপ্রামাণিক তথ্য প্রচার বা বিশ্বাস না করার জন্য, এবং শুধুমাত্র সরকারী ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।
এফআইআরটি ভারতীয় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির অধীনে দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে জালিয়াতি, প্রতারণা এবং ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্ত চিঠির উৎস খুঁজে বের করতে এবং এটি ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রচেষ্টা চলছে।
এই ঘটনা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে ঘটেছে, কারণ অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটি গণমাধ্যম ও জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে।

