আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে ভারতের ব্লু ইকোনমির বড় হাব হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে: জিতেন্দ্র সিং

পোর্ট ব্লেয়ার, ১৮ জানুয়ারি :কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী (স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা. জিতেন্দ্র সিং শনিবার জানান, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে ভারতের ব্লু ইকোনমির একটি প্রধান হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার কাজ করছে। সামুদ্রিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে তিনি জানান।

পোর্ট ব্লেয়ারের শ্রী বিজয়া পুরমে অবস্থিত আটল সেন্টার ফর ওশান সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ফর আইল্যান্ডস পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি একাধিক সামুদ্রিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রকল্পের সূচনা ও পর্যালোচনা করেন, যা দ্বীপাঞ্চলে জীবিকা শক্তিশালী করা এবং ব্লু ইকোনমিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
বিজ্ঞানী, প্রশাসনিক আধিকারিক ও স্থানীয় অংশীদারদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে ডা. সিং বলেন, ভবিষ্যতে ভারতের অর্থনৈতিক মূল্য সংযোজনের একটি বড় অংশ আসবে এখনও অনাবিষ্কৃত সামুদ্রিক সম্পদ থেকে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির পথে এগোতে গেলে এই সম্পদগুলির সদ্ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দর্শনের অংশ হিসেবেই ব্লু ইকোনমির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্বীপাঞ্চল ও উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলি মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সমানভাবে অগ্রসর হয়।

ডলি গঞ্জে এসিওএসটিআই ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সাংসদ বিষ্ণু পদ রায়, ভূ-বিজ্ঞান মন্ত্রকের সচিব ডা. এম. রবিচন্দ্রন, দ্বীপপুঞ্জ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওশান টেকনোলজির বিজ্ঞানীরা এবং বিভিন্ন স্থানীয় দপ্তর ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।

সংসদীয় সহায়তার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ধারাবাহিক প্রতিনিধিত্ব সংসদে জাতীয় স্তরে এই অঞ্চলের উন্নয়নের বিষয়টি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০১৪ সালের পর থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দ্বীপাঞ্চলকে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডিপ ওশান মিশনের কথা উল্লেখ করে ডা. সিং বলেন, লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার এই মিশনের ঘোষণা দিয়েছেন, যা সামুদ্রিক সম্পদের ওপর জাতীয় গুরুত্বকে স্পষ্ট করে। তিনি জানান, প্রচলিত সম্পদ কমে আসার প্রেক্ষিতে ব্লু ইকোনমি ভারতের টেকসই বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, রপ্তানি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী খোলা সমুদ্রে মাছ চাষের কেজ কালচার, বৃহৎ পরিসরে সামুদ্রিক শৈবাল চাষসহ একাধিক পাইলট প্রকল্পের সূচনা ও পর্যালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে স্থানীয় অংশীদারদের যুক্ত করা ‘হোল-অব-গভর্নমেন্ট, হোল-অব-সোসাইটি’ উন্নয়ন পদ্ধতির প্রতিফলন।
সামুদ্রিক বিজ্ঞান ও জৈবপ্রযুক্তির সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে ডা. সিং জানান, ভারতের নিজস্ব জৈবপ্রযুক্তি নীতি বায়োই৩ রয়েছে। সামুদ্রিক জৈব সম্পদ থেকে পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিকের বিকল্প, নতুন ওষুধ এবং উচ্চমূল্যের জৈবপণ্যের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিকল্প সামুদ্রিক পুষ্টি, নন-অ্যানিমাল খাদ্যপণ্য, ওয়েস্ট-টু-ওয়েলথ প্রযুক্তি এবং রপ্তানিমুখী সামুদ্রিক পণ্যের আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়ছে, বিশেষত ইউরোপে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি ‘ভোকাল ফর লোকাল’ এবং ‘লোকাল ফর গ্লোবাল’ ভাবনাকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

পরিশেষে ডা. জিতেন্দ্র সিং বিজ্ঞানী ও স্থানীয় অংশীদারদের নিষ্ঠার প্রশংসা করে বলেন, সিএসআইআর ও অন্যান্য জৈবপ্রযুক্তি গবেষণা সংস্থার সম্ভাব্য সহযোগিতায় আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভারতের ব্লু ইকোনমির এক গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে। তিনি দ্বীপাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক, পরিবেশগত ও সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে কেন্দ্র সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply