প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে, ১৭ জানুয়ারি হাওড়া–গুয়াহাটি রুটে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী

নয়াদিল্লি, ১৬ জানুয়ারি : ভারতীয় রেলে বৈপ্লবিক উন্নয়নের মুকুটে নতুন পালক জুড়তে চলেছে। বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী ১৭ জানুয়ারি তিনি মালদা টাউন রেলওয়ে স্টেশন থেকে হাওড়া–গুয়াহাটি (কামাখ্যা) রুটে ভারতের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের সূচনা করবেন। তিনি ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি দু’দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গ পরিদর্শন করবেন। এই সফরে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রেল, সড়ক, জলপথ ও পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস ও সূচনা করবেন।

১৭ জানুয়ারি দুপুর প্রায় ১২টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মালদা সফরে এসে মালদা টাউন রেলওয়ে স্টেশন থেকে হাওড়া–গুয়াহাটি (কামাখ্যা) রুটে ভারতের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের পতাকা নাড়িয়ে সূচনা করবেন। এরপর দুপুর প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে মালদায় আয়োজিত এক জনসভায় তিনি ৩,২৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক রেল ও সড়ক পরিকাঠামো প্রকল্প জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ ও শিলান্যাস করবেন। ১৮ জানুয়ারি বিকেল প্রায় ৩টায় হুগলি জেলার সিঙ্গুরে প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস ও সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী মালদায় রেল ও সড়ক পরিকাঠামোর একাধিক প্রকল্প জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ ও শিলান্যাস করবেন, যার মোট ব্যয় প্রায় ৩,২৫০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে এবং উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।

মালদা টাউন রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী হাওড়া–গুয়াহাটি (কামাখ্যা) বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের সূচনা করবেন। আধুনিক ভারতের পরিবহণ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে নির্মিত সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই ট্রেন যাত্রীদের সাশ্রয়ী ভাড়ায় বিমানযাত্রার মতো অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। এই ট্রেনের মাধ্যমে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা হবে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়ক। হাওড়া–গুয়াহাটি রুটে প্রায় ২.৫ ঘণ্টা যাত্রাসময় কমে আসবে, যা ধর্মীয় পর্যটন ও পর্যটন শিল্পে বিশেষ গতি আনবে।

প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে চারটি বড় রেল প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। এর মধ্যে রয়েছে বালুরঘাট–হিলি নতুন রেললাইন, নিউ জলপাইগুড়িতে আধুনিক ফ্রেট মেইনটেন্যান্স সুবিধা, শিলিগুড়ি লোকো শেডের উন্নয়ন এবং জলপাইগুড়ি জেলায় বন্দে ভারত ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রের আধুনিকীকরণ। এই প্রকল্পগুলি উত্তরবঙ্গে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নিউ কোচবিহার–বামনহাট এবং নিউ কোচবিহার–বক্সিরহাট রেলপথের বিদ্যুতায়ন প্রকল্প জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন, যার ফলে দ্রুত, পরিচ্ছন্ন ও শক্তি-দক্ষ রেল পরিষেবা নিশ্চিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি নিউ জলপাইগুড়ি–নাগেরকোইল, নিউ জলপাইগুড়ি–তিরুচিরাপল্লি, আলিপুরদুয়ার–এসএমভিটি বেঙ্গালুরু এবং আলিপুরদুয়ার–মুম্বই (পানভেল) চারটি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের সূচনা করবেন। এই ট্রেনগুলি সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য দূরপাল্লার রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করবে।

এছাড়াও এলএইচবি কোচযুক্ত দুটি নতুন ট্রেন রাধিকাপুর–এসএমভিটি বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস এবং বালুরঘাট–এসএমভিটি বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেসের সূচনা করা হবে, যা তরুণ, ছাত্রছাত্রী ও আইটি পেশাজীবীদের জন্য বড় শহরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ করবে। প্রধানমন্ত্রী এনএইচ-৩১ডি-এর ধুপগুড়ি–ফালাকাটা অংশের চার লেন উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাসও করবেন, যা উত্তরবঙ্গে সড়ক যোগাযোগকে আরও মজবুত করবে।

১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৮৩০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। এর মধ্যে রয়েছে বালাগড়ে এক্সটেন্ডেড পোর্ট গেট সিস্টেম, অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহণ টার্মিনাল এবং রোড ওভার ব্রিজ নির্মাণ।

প্রায় ৯০০ একর এলাকাজুড়ে বালাগড়কে একটি আধুনিক কার্গো হ্যান্ডলিং টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যার বার্ষিক ধারণক্ষমতা প্রায় ২.৭ মিলিয়ন টন। এই প্রকল্প কলকাতা শহরের যানজট ও দূষণ কমাতে সহায়ক হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় একটি অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক ক্যাটামারানও উদ্বোধন করবেন, যা হুগলি নদীতে পরিবেশবান্ধব জলযান পরিষেবাকে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি জয়রামবাটি–বারোগোপীনাথপুর–ময়নাপুর নতুন রেললাইন উদ্বোধন ও ময়নাপুর–জয়রামবাটি নতুন ট্রেন পরিষেবার সূচনা করবেন।

এছাড়াও হাওড়া–আনন্দ বিহার টার্মিনাল, শিয়ালদহ–বারাণসী এবং সাঁতরাগাছি–তাম্বরম তিনটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন পতাকা নাড়িয়ে সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সমস্ত প্রকল্প পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ইঞ্জিন হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

Leave a Reply