নয়াদিল্লি, ১৬ জানুয়ারি : মধ্যপ্রদেশের অনুপপুর জেলার অমরকন্টকে ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় উপজাতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে এক ছাত্রকে হেনস্থার অভিযোগ উঠল পাঁচজন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ফের ত্রিপুরা কাণ্ডের স্মৃতি মনে পড়ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই তাঁদের বহিষ্কার করেছে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত ছাত্র হিরোস জ্যোতি দাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্র। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে হিরোস যখন ছাত্রাবাসের স্নানাগার থেকে নিজের ঘরে ফিরছিলেন, তখন অভিযুক্ত পাঁচজন তাঁর উদ্দেশে প্রশ্ন করতে থাকে, “তুমি কোথা থেকে এসেছ এবং এই ছাত্রাবাসে কী করছ?” এরপর তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর হিরোস জ্যোতি দাস জানিয়েছেন যে, অভিযুক্তরা তাকে ব্রেসলেট দিয়ে মারধর করে, যার ফলে তাঁর চোখ, কান, নাক ও ঠোঁট জখম হয়েছে। স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ১১৫(২), ২৯৬, ৩৫১(৩) ও ৩(৫) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধারাগুলির মধ্যে রয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা, অশ্লীল কাজ ও কথা বলা এবং অপরাধমূলক ভয় দেখানোর অভিযোগ।
অভিযুক্তদের নাম—অনুরাগ পান্ডে, যতীন সিংহ, রজনীশ ত্রিপাঠী, বিশাল যাদব ও উৎকর্ষ সিংহ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।
মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেতৃত্ব এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা উমং সিংহার অভিযোগ, এটি বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলা এবং অভিযুক্তরা ক্ষমতাসীন দলের সদস্য। তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্তরা মত্ত অবস্থায় আক্রমণ চালিয়েছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নামমাত্র পদক্ষেপ নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বর মাসে ত্রিপুরা থেকে উত্তরাখণ্ডে পড়াশোনা করতে যাওয়া অ্যাঞ্জেল চাকমা এবং তাঁর ভাই মাইকেলকেও মারধরের শিকার হতে হয়েছিল। দেহরাদূনের একটি কলেজে তারা এমবিএ করছিলেন। অভিযোগ ছিল, তাদের জাত তুলে গালিগালাজ করা হয় এবং প্রতিবাদ করলে দুজনকে মারধর করা হয়। অ্যাঞ্জেল চাকমাকে গুরুতর আঘাত করা হয় এবং ১৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ২৬ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তখন ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
এখন, মধ্যপ্রদেশের এই ছাত্র হেনস্থার ঘটনা আবারও অ্যাঞ্জেল চাকমার হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিকে সামনে নিয়ে এসেছে, যা বর্ণবিদ্বেষ ও জাতীয়তা সংক্রান্ত সহিংসতার দিকে ইঙ্গিত করে।

