নয়াদিল্লি, ১৬ জানুয়ারি : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি দু’দিনের সফরে অসম যাচ্ছেন। এই সফরে তিনি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও পরিকাঠামোগত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা প্রায় ৬টায় প্রধানমন্ত্রী গুয়াহাটির সরুসজাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বড়ো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “বাগুরুম্বা দ্বৌ ২০২৬”-এ অংশগ্রহণ করবেন। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে বড়ো জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি উদ্যাপন করা হবে। রাজ্যের ২৩টি জেলার ৮১টি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে আগত ১০ হাজারেরও বেশি শিল্পী একযোগে সমন্বিতভাবে বাগুরুম্বা নৃত্য পরিবেশন করবেন।
বাগুরুম্বা বড়ো জনগোষ্ঠীর একটি অন্যতম লোকনৃত্য, যা প্রকৃতি দ্বারা গভীরভাবে অনুপ্রাণিত। এই নৃত্যে প্রস্ফুটিত ফুল, প্রজাপতি, পাখি, পাতা ও ফুলের নড়াচড়ার মাধ্যমে মানবজীবন ও প্রকৃতির পারস্পরিক সাদৃশ্য ফুটে ওঠে। সাধারণত তরুণী বড়ো নারীরা এই নৃত্য পরিবেশন করেন এবং পুরুষরা বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে সঙ্গত দেন। বাগুরুম্বা শান্তি, উর্বরতা, আনন্দ ও সামষ্টিক সম্প্রীতির প্রতীক এবং বড়ো নববর্ষ ‘বুইসাগু’ ও ‘দোমাসি’ উৎসবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
১৮ জানুয়ারি সকাল প্রায় ১১টায় প্রধানমন্ত্রী নগাঁও জেলার কলিয়াবরে কাজিরাঙা এলিভেটেড করিডর প্রকল্পের ভূমি পূজন করবেন। প্রায় ৬,৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই প্রকল্পটি এনএইচ-৭১৫-এর কলিয়াবর-নুমালীগড় অংশের চার লেন উন্নয়নের অন্তর্ভুক্ত। ৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পে কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের উপর দিয়ে ৩৫ কিলোমিটার এলিভেটেড ওয়াইল্ডলাইফ করিডর, ২১ কিলোমিটার বাইপাস এবং বিদ্যমান দুই লেন সড়ককে চার লেনে সম্প্রসারণ করা হবে।
পরিবেশবান্ধব এই জাতীয় সড়ক প্রকল্পটি নাগাঁও, কার্বি আংলং ও গোলাঘাট জেলা দিয়ে অতিক্রম করবে এবং উপর অসম, বিশেষ করে ডিব্রুগড় ও তিনসুকিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করবে। এলিভেটেড করিডরের ফলে বন্যপ্রাণীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিত হবে, মানব-বন্যপ্রাণী সংঘাত কমবে, পাশাপাশি যাতায়াতের সময় ও দুর্ঘটনার হার হ্রাস পাবে। জাখলাবান্ধা ও বোকাখাটে নির্মিতব্য বাইপাসগুলি শহরের যানজট কমিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নত করবে।
এই কর্মসূচিতেই প্রধানমন্ত্রী গুয়াহাটি (কামাখ্যা)-রোহতক এবং ডিব্রুগড়-লখনউ (গোমতী নগর) দুটি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের সূচনা করবেন। এই নতুন ট্রেন পরিষেবার মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারত ও উত্তর ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও মজবুত হবে এবং যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক যাতায়াত নিশ্চিত করবে।

