নয়াদিল্লি, ১৫ জানুয়ারি : থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে ভারত। বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক থাইল্যান্ডের জনগণ ও সরকারের প্রতি সমবেদনা জানায়।
স্থানীয় প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, নাখন রাচাসিমা প্রদেশে একটি নির্মাণাধীন হাই-স্পিড রেল সেতুর ক্রেন ভেঙে পড়ে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে। এই দুর্ঘটনায় প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন।
বিদেশ মন্ত্রক এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে জানিয়েছে,
১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে থাইল্যান্ডের নাখন রাচাসিমায় ঘটে যাওয়া ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এই দুঃসময়ে থাইল্যান্ডের জনগণ ও সরকারের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি গভীর সহানুভূতি জানাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।
বুধবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটে, যখন ব্যাংকক থেকে উবন রাতচাথানি প্রদেশগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর হাই-স্পিড রেল প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত একটি নির্মাণ ক্রেন ভেঙে পড়ে।
নাখন রাচাসিমার গভর্নর চাইওয়াত চুয়েনকোসুম এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে রেললাইন স্বাভাবিক করতে থাইল্যান্ডের স্টেট রেলওয়ের প্রায় সাত দিন সময় লাগতে পারে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
এর আগে থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পরিবহণমন্ত্রী ফিফাট রাচাকিটপ্রাকার্ন জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে স্বচ্ছ ও বিস্তৃত তদন্ত চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
থাই সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট রেলপথ অংশের প্রধান ঠিকাদার সংস্থা ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পিএলসি দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করে একটি বিবৃতি জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত দায়িত্ব তারা বহন করবে।
এই দুর্ঘটনায় গোটা থাইল্যান্ড জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

