তিন বছরে সাংসদ উন্নয়ন তহবিল থেকে ১৪ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে রাজ্যে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন: সাংসদ বিপ্লব

আগরতলা, ১৫ জানুয়ারি: গত তিনবছরে সাংসদ উন্নয়ন তহবিল থেকে মোট ১৪ কোটি ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৬৮ টাকা ব্যয় করে রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প সম্পন্ন করেছেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। রাজ্যসভার সাংসদ থাকাকালীন সময়, ও বর্তমানে লোকসভার সাংসদ হওয়ার পর এই অর্থের মাধ্যমে রাজ্যে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছেন তিনি। তার মধ্যে রাজ্যের ১৯ টি বিদ্যালয় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, কমিউনিটি সেন্টার, মার্কেট শেড, মেডিকেল সার্ভিস সেন্টার বিল্ডিং, যোগা কেন্দ্র, ইনডোর হল, অ্যাম্বুলেন্স সহ ওপেন জিম রয়েছে।

আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য দিয়েছেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। তিনি জানান রাজ্যসভার সাংসদ থাকাকালীন, তিনি মোট ১৩টি প্রজেক্টে ৪ কোটি ৫৭ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫৯১ টাকা ব্যয় করে রাজ্যের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত করেছেন। পরবর্তী সময়ে লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭টি প্রকল্পে মোট ৩ কোটি ৪৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ২৬৮ টাকা খরচ করেছেন বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে। ২০১৫_২৬ অর্থ বছরে ১৫ টি প্রকল্পে সাংসদ উন্নয়ন তহবিল থেকে খরচ হয়েছে ৬ কোটি ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৭০৯ টাকা।

সাংসদ আরও জানান, গত লোকসভা অধিবেশন ১- ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলেছিল। সেই অধিবেশনে মোট ৫৬ টি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার মধ্যে ১১ টি প্রশ্ন গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে একটি ছিল স্টার প্রশ্ন। সেটি হল স্কলারশিপ স্কিম ফর ট্রাভেলস। এই বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন তিনি লোকসভা অধিবেশনে। বাকি ১০ টি প্রশ্নের রাজ্যের উন্নয়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন ছিল।

রাজ্যের উন্নয়ন সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে এদিন সাংসদ বলেন, পিএম রিলিফ ফান্ড থেকে ১৪ টি পরিবারের ১৪ সদস্যকে ৩২ লক্ষ ৪০ হাজার ২৫৯ টাকা সাহায্য প্রদান করা হয়েছে বিগতদিনে। এছাড়াও রাজ্যের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। সাংসদ বলেন, ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থায় রেলমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে নতুন বছরের শুরুতে। আগরতলা-ধর্মনগর- আগরতলা এক্সপ্রেস ট্রেনে আধুনিক সুবিধাযুক্ত এলএইচবি কোচ যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এই সফর জনসাধারণের জন্য আরও বেশি করে আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দকর হয়েছে। উন্নত কোচে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের স্টেশনগুলির মান উন্নয়ন ঘটছে। আগে স্টেশনগুলি যথেষ্ট জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যের প্রত্যেকটি রেল স্টেশন যথেষ্ট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।

রাজ্যের রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জাতীয় সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছে বিভিন্ন এলাকা থেকে। সেই বিষয়গুলি কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে সেই সকল আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন্দ্র সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন সাংসদ।

এছাড়াও রাজ্যে বিপুল পরিমাণ পোল্ট্রি মুরগির চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদার জোগান দিতে উড়িষ্যা থেকে পোল্ট্রি ফার্মিং এর জন্য মুরগির ছানা বিমান পথে আনা হতো রাজ্যে। কিন্তু বর্তমানে এই ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। ফলে সড়কপথে ছানাগুলি রাজ্যে আনা হলে স্বাভাবিকভাবেই মাংসের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে যাতায়াতের সময় প্রচুর ছানা নষ্ট ও হচ্ছে, ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় বিমান পরিবহনমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে বিমান পথে এই পরিষেবা পুনরায় চালু করার আবেদন জানিয়েছেন। এর ফলে রাজ্যে পোল্ট্রি ফার্মিং এর ভারসাম্য স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

Leave a Reply