বিএলও হামিমুল ইসলামের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ, তৃণমূল কর্মী বুলেট খান গ্রেফতার

মুর্শিদাবাদ, ১৩ জানুয়ারী : সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলা ২ নম্বর ব্লকের আখরিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আলাইপুর গ্রামের বিএলও হামিমুল ইসলামের আত্মহত্যার ঘটনার তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। গত ১০ জানুয়ারি রাতে স্কুলের ভিতর থেকে হামিমুল ইসলামের মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পর শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন। তৃণমূলের দাবি ছিল, এসআইআর (সার্ভিস ইনচার্জ রেজিস্টার) এর কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে হামিমুল আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে একেবারেই অন্য ঘটনা।

এই ঘটনায় মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ বুলেট খান নামে এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। বুলেট খান, যিনি রানিতলা থানার ফুলপুর গ্রামের বাসিন্দা, তাঁর বিরুদ্ধে হামিমুল ইসলামের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বুলেট খান হামিমুল ইসলামের কাছ থেকে ২০ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিল এবং সেই টাকা ফেরত না দেয়ার কারণে একাধিকবার হামিমুলকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি টাকা ফেরত চাওয়ার পর হামিমুলকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুলেট খানকে ১২ জানুয়ারি লালবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হয় এবং আদালত তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। পুলিশ জানায়, বুলেটের বিরুদ্ধে সাইবার প্রতারণার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টের ভিত্তিতে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য যে, হামিমুল ইসলামের মৃত্যুতে তৃণমূলের বিধায়ক রিয়াজ হোসেন সরকার স্থানীয়দের সঙ্গে দেখা করে হামিমুলের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি দাবি করেছিলেন, “হামিমুলের মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী”, কিন্তু তদন্তে উঠে আসা নতুন তথ্য পুরোপুরি ভিন্ন একটি চিত্র প্রকাশ করছে।

এদিকে, হামিমুল ইসলামের স্ত্রী সীমা খাতুন বিবি জানিয়েছেন, বুলেট খানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তিনি তুলে ধরেছেন। এই ঘটনায় স্থানীয়রা অবাক, কারণ তারা জানেন বুলেট খান একজন তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, তারা এখন বিভিন্ন প্রমাণ যাচাই করে দেখছেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Leave a Reply