ওয়াশিংটন, ১৩ জানুয়ারি:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী আইনপ্রণেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি বিশ্ব মঞ্চে ভারতের ভূমিকা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছেন। তাঁদের মতে, ওয়াশিংটন ক্রমশই প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বকে ভারত–মার্কিন অংশীদারিত্বের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেসম্যান রিচ ম্যাককরমিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর দৃষ্টিভঙ্গি দৃঢ় জাতীয় স্বার্থের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা ভারতের উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ম্যাককরমিক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী অত্যন্ত জাতীয়তাবাদী—ভাল অর্থে। তিনি তাঁর দেশের স্বার্থ দেখেন, ঠিক যেমন আমরা আমাদের দেশের স্বার্থ দেখি।”
মার্কিন কংগ্রেসের ইন্ডিয়া ককাসের কো-চেয়ার ম্যাককরমিক আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, “তিনি চান প্রতিরক্ষা ও উৎপাদন খাতে দেশের ভিতরেই সক্ষমতা গড়ে উঠুক।” যদিও কিছু নীতি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে জটিল করে তুলতে পারে, তবুও সেগুলি ভারতের জাতীয় অগ্রাধিকারের প্রতিফলন বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের দীর্ঘতম সময় ধরে দায়িত্ব পালনকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত সদস্য প্রতিনিধি অ্যামি বেরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর শাসনকালেই ভারত মার্কিন কৌশলে একটি কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।
বেরা বলেন, “আমাদের গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে ভারত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে,” এবং উল্লেখ করেন যে একাধিক মার্কিন প্রশাসন জুড়েই এই অবস্থান বজায় রয়েছে।
ম্যাককরমিক প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আধুনিক সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমার মতে, আধুনিক ইতিহাসে তিনি সম্ভবত সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। গান্ধীর পর সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা বললেও অত্যুক্তি হবে না।”
ভারতের বৈচিত্র্য সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দৃষ্টিভঙ্গির কথাও তুলে ধরেন ম্যাককরমিক। তিনি স্মরণ করেন, প্রধানমন্ত্রী একবার বলেছিলেন—যে রাজনীতিবিদ দক্ষিণ থেকে উত্তর বা উত্তর থেকে দক্ষিণে সাধারণ ট্রেনের কামরায় যাত্রা করেননি, তাঁকে তিনি বিশ্বাস করেন না। এর মাধ্যমে ভারতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে কাছ থেকে বোঝার গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
দুই মার্কিন আইনপ্রণেতার মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর শাসনশৈলী তাঁকে গণতন্ত্রের জটিলতা গভীরভাবে অনুধাবন করতে সাহায্য করেছে। ম্যাককরমিক বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে একইভাবে ভাবতে হয়, কারণ দুই দেশই ধর্ম, ভাষা ও রাজনৈতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর।”
অ্যামি বেরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারতের আন্তর্জাতিক আত্মবিশ্বাস উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাঁর কথায়, “ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার যেভাবে দ্রুত বাড়ছে, তা বিশ্ব অর্থনীতি ও কৌশলগত হিসাব-নিকাশ নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।”

