শিল্পের মাধ্যমে সংস্কৃতিকে জীবিত রাখছেন আলপনা গ্রামের মানুষ: কৃষিমন্ত্রী

আগরতলা, ১৩ জানুয়ারি: শিল্পের মাধ্যমে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জীবিত করে রেখেছেন আলপনা গ্রামের মানুষ। হারিয়ে যেতে বসা প্রাচীন সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারে রাজ্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে, লোকগান, বাউল গান, যাত্রাপালা, নাটক, কীর্তনসহ নানা সাংস্কৃতিক ধারাকে আবারও সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার প্রয়াস চলছে।

আজ লঙ্কামুড়ার আলপনা গ্রামে তিন দিনব্যাপী আলপনা ও পিঠেপুলি উৎসব ২০২৬-এর উদ্বোধন করে একথা বলেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ। আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এই উৎসব চলবে।

মন্ত্রী বলেন যে কাজই করা হোক না কেন, তা মন-প্রাণ দিয়ে করা উচিত। ভারতবর্ষের মতো দেশ পৃথিবীতে আর নেই। এখানে সমুদ্র, পাহাড়, অরণ্য—সবকিছুর এক অপূর্ব সমাহার রয়েছে। সেই কারণেই সারা বিশ্বের মানুষ ভারতের সৌন্দর্য ও সংস্কৃতি দেখতে আসে।

তিনি বলেন, আলপনা গ্রামে এসে তিনি দেখেছেন কীভাবে মানুষ মাটির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। গ্রামের মানুষ নানান ধরনের সবজি চাষ করছেন এবং শিল্পের মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখছেন। আলপনা গ্রাম আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের মধ্যে এক সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। এটাই ভারতবর্ষের প্রকৃত রূপ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারবার এই বিষয়টির উপর জোর দিয়ে আসছেন,।

তিনি  বলেন, শীতকালে দেশজুড়ে পিঠেপুলি উৎসব, গ্রামীণ মেলা, নগরকীর্তন, লোকসংগীত, যাত্রাপালার মতো নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রকৃতি, কৃষি ও হাজার বছরের সামাজিক সম্পর্ক গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন এই সময়টা শুধু আনন্দের নয়, কৃষকদের সাফল্যের সময়ও বটে। দীর্ঘদিন মাটিতে পরিশ্রম করার পর এই সাফল্য আসে। কৃষি কোনো একক মানুষের কাজ নয়—এটি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত প্রয়াস। কৃষকরাই সমাজকে একসূত্রে বাঁধেন। পিঠেপুলি উৎসব তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

মন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকার হারিয়ে যেতে বসা লোকসংস্কৃতি—লোকগান, বাউল গান, যাত্রাপালা, নাটক, কীর্তন ইত্যাদি পুনরুজ্জীবিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এই সংস্কৃতি আমাদের নিজস্ব। বর্তমান প্রজন্ম যত বেশি এই সংস্কৃতির চর্চা ও সংরক্ষণ করবে, ততই রাজ্য ও দেশ উপকৃত হবে।

মন্ত্রী বলেন আলপনা ও পিঠেপুলি উৎসব মূলত মাটি ও প্রকৃতির উৎসব। এই গ্রামের মানুষ মাটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তারা আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যকে মিলিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আজ আলপনা গ্রাম শুধু রাজ্যে নয়, দেশ-বিদেশেও পরিচিত। বহু মানুষ এই গ্রাম দেখতে আসেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের উন্নয়নের জন্য চারটি শ্রেণিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন—মহিলা , কৃষক, যুবসমাজ ও দরিদ্র মানুষ। এই চারটি শ্রেণির উন্নয়ন হলেই দেশ সামগ্রিকভাবে এগিয়ে যাবে। কৃষিই পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কৃষকরাই খাদ্য উৎপাদনের ভিত্তি, তারা গোটা সমাজকে ধারণ করে রাখেন। কৃষকরাই আমাদের অন্নদাতা। কৃষকদের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য ।

Leave a Reply