পুর্ণিয়া, ১৩ জানুয়ারী : বিহারের পুর্ণিয়া জেলায় এক নর্তকীকে অপহরণ করে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শনিবার রাতের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। তবে শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়েও অদম্য সাহসের পরিচয় দিয়েছেন ওই মহিলা। অভিযুক্তদের একজন মত্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়লে তাঁর ফোন থেকেই পুলিশকে ফোন করে নিজের অবস্থান জানান নির্যাতিতা। পুলিশ এসে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ৯টা নাগাদ দুই ব্যক্তি ওই নর্তকীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। তাঁকে গাড়িতে তুলে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে একটি নির্জন গুদামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই আরও চারজন উপস্থিত ছিল। অভিযোগ, পরিত্যক্ত ওই গুদামে মহিলাকে জোর করে মদ্যপান করানো হয় এবং নাচতে বাধ্য করা হয়। এরপর একে একে ছয়জন মিলে তাঁকে ধর্ষণ করে ও প্রচণ্ড মারধর করে।
অত্যাচারের পর পাঁচ অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও একজন মত্ত অবস্থায় গুদামেই ঘুমিয়ে পড়ে। সেই সুযোগে নির্যাতিতা ওই অভিযুক্তের মোবাইল ফোনটি হস্তগত করেন এবং ১১২ নম্বরে ডায়াল করে পুলিশকে বিস্তারিত জানান। রাত সোয়া ১২টা নাগাদ পুলিশ গুদামের দরজা ভেঙে রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয় ঘুমিয়ে থাকা অভিযুক্তকে।
পুর্ণিয়ার পুলিশ সুপার সুইটি শেরাওয়াত জানিয়েছেন, সম্প্রতি এক অপহরণের ঘটনার তদন্তে পুলিশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছে। পুলিশ একটি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, যে স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত। অপহরণে ব্যবহৃত গাড়িটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে, যা ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে। ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর একটি বড়সড় মানবপাচার চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, এবং পুলিশ এখন বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে। নির্যাতিতা বর্তমানে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পুলিশ এই ঘটনার গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য সদস্যদের ধরার চেষ্টা করছে।
জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা মহিলার স্বামী বছরখানেক আগে পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। বর্তমানে তিনি একাই থাকতেন। পুলিশ বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।

