আগরতলা, ১২ জানুয়ারি : ফটিকরায় শিমুলতলি গ্রামে সাম্প্রতিক হিংসা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ সিপিআই-র একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছেন।
প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক মিলন বৈদ্য, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রাসবিহারী ঘোষ, সদস্য নীলমণি দেব, মহিলা নেত্রী হাসনা বেগম, রাজ্য পরিষদের সদস্য ও কৈলাশহর বিভাগীয় সম্পাদক শাহেদ আলী বাদশা, রাজ্য পরিষদের সদস্য এস এম আলী বাবু, বিভাগীয় পরিষদের সদস্য সোনাই মিয়া ও আব্দুল সালাম সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে প্রতিনিধি দল কুমারঘাট থানায় গিয়ে এসডিপিও উৎপলেন্দু দেবনাথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি থাকায় সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। প্রশাসন আরও জানায়, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ১৬৩ ধারা প্রত্যাহার হলে সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে।
সিপিআই নেতৃত্ব জানান, ঘটনার পর থেকে এলাকার সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। বাজারঘাট ও দৈনন্দিন কাজকর্মে বহু পরিবার ব্যাহত হচ্ছেন। তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান যাতে সংখ্যালঘুদের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর কোনও ঘাটতি না হয়।
নেতৃত্বরা আরও দাবি করেন, হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়া, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের শিকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বাড়িঘর ও যানবাহন দ্রুত সংস্কার করে ব্যবহারযোগ্য করা উচিত।
প্রতিনিধিদল দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়। এছাড়া উদয়পুর–চন্দ্রপুর এলাকায় ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা প্রসঙ্গে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তারা।
সিপিআই নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজ্যে এ ধরনের ভয় ও অশান্তির পরিবেশ অতীতে কখনও দেখা যায়নি। তারা প্রশাসন ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান, অবিলম্বে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে।

