আইপ্যাক দফতর ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি: ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠাল ইডি

কলকাতা, ১০ জানুয়ারি: বেআইনি কয়লা পাচার-কাণ্ডের তদন্তে কলকাতায় তল্লাশি অভিযানের সময় কী কী ঘটেছিল, তার বিস্তারিত জানতে চেয়ে শুক্রবারই ইডির কাছে রিপোর্ট তলব করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তার পরদিনই সেই বিস্তারিত রিপোর্ট দিল্লিতে ইডির সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্টটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরে পাঠানো হতে পারে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতর এবং লাউডন স্ট্রিটে সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে যেসব ইডি আধিকারিক তল্লাশি চালিয়েছিলেন, তাঁরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিয়ে এই রিপোর্ট তৈরি করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী আধিকারিকদের বয়ান-সহ ওই নথিতে বৃহস্পতিবারের ঘটনার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী, কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানতে চেয়েছিল।

যদিও ওই দিন কী ঘটেছিল, তা আগেই প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছিল ইডি এবং কলকাতা হাই কোর্টে জমা দেওয়া মামলার নথিতেও তার উল্লেখ রয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর করে গুরুত্বপূর্ণ নথি কেড়ে নিয়েছিলেন। দিল্লিতে পাঠানো রিপোর্টেও সেই অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।

উল্লেখ্য, বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির মোট ১০টি জায়গায় ইডির তল্লাশি অভিযান চলে। তার মধ্যে কলকাতার দু’টি জায়গায় তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে ইডি। সংস্থার দাবি, সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তল্লাশি চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছে ইডি।

ইডির তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় একাধিক ডিজিটাল নথি সংগ্রহ করা হয়েছিল। সকাল ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় লাউডন স্ট্রিটের ওই বাড়িতে যান এবং অনধিকার প্রবেশের একটি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে বলে ইডি আধিকারিকদের জানান। এরপর ইডির তরফে পুলিশকে পরিচয়পত্র ও তল্লাশির পরোয়ানা দেখানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। তাঁকেও তল্লাশি অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।

ইডির রিপোর্ট অনুযায়ী, দুপুর ১২টা ৫ মিনিট নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে একাধিকবার তল্লাশি অভিযানে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ করা হলেও, ‘‘সমস্ত আইন ভেঙে ইডি আধিকারিক প্রশান্ত চান্ডিলার কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জোর করে ডিজিটাল নথি কেড়ে নেন’’—এমনই দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। ওই ঘটনার পর প্রায় ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

অন্য দিকে, পুলিশ সূত্রের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, সকাল ৯টা থেকেই পুলিশ প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পুলিশকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বাড়ির নীচে কোনও তল্লাশি পরোয়ানা দেখানো হয়নি এবং পরিচয়পত্রও দেখানো হয়নি বলে পুলিশের অভিযোগ। উল্টে পুলিশকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়। এর পরেই পুলিশ কমিশনার এবং মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে যান বলে দাবি পুলিশের।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পৃথক মামলা করেছে ইডি। দু’টি মামলারই শুনানি আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি রয়েছে।

Leave a Reply