কলকাতা, ৯ জানুয়ারি: আইপ্যাক (আইপ্যাক) দফতর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট)-এর হানার বিরুদ্ধে এবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দুই পৃথক থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং তার ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই এফআইআর (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) করেছে। এই অভিযোগের মধ্যে সল্টলেকের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানা এবং শেক্সপিয়র সরণি থানায় ইডি ও সিআরপিএফের (কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স) অজ্ঞাতপরিচয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সকালে, কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। একই সময়ে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরেও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি পুরনো মামলার ভিত্তিতে এই তল্লাশি করা হয়। দুপুরে, ঘটনাস্থলে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। তিনি প্রথমে প্রতীকের বাড়িতে এবং পরে আইপ্যাকের দফতরে ঢোকেন। সেখানে ইডি কর্তৃক চালানো অভিযানের সময় তিনি ফাইল, নথিপত্র এবং ল্যাপটপ সংগ্রহ করে বাইরে বেরিয়ে আসেন। মমতার দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থা তাঁর দলের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কৌশল চুরি করেছে।
শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেক্সপিয়র সরণি এবং ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় যে অভিযোগ দায়ের করেছেন, তাতে একাধিক গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাতপরিচয় কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, জিনিসপত্র নিতে বাধ্য করা, এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আইপ্যাক দফতর ও লাউডন স্ট্রিটে ইডির তল্লাশি নিয়ে এর আগেও বৃহস্পতিবার পুলিশ নিজের উদ্যোগে একটি মামলা করেছিল। তবে, নতুন করে অভিযোগ দায়ের হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে ইডি কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছে এবং সেখানে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। পাল্টা, তৃণমূল কংগ্রেসও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে, যা আইপ্যাক ও ইডিকে যুক্ত করে।
শুক্রবার দুপুরে, কলকাতা হাই কোর্টে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই দুটি মামলা একসঙ্গে শুনানি হবে। মামলার এই দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে আইনি লড়াই আরো তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘটনায় আইপ্যাক-এ অভিযান এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে, এবং তা আইন আদালত পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

