জম্মু-কাশ্মীরে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, তাজিকিস্তানে উৎপত্তি

শ্রীনগর, ৯ জানুয়ারি: শুক্রবার সকালে জম্মু ও কাশ্মীরে ৫.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে, ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল তাজিকিস্তানে, জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তারা আরও জানান, এখনও পর্যন্ত কোন প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের পরিচালক মুকতার আহমেদ আইএএনএসকে জানান, ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় ২:৪৪ মিনিটে অনুভূত হয়।

“ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল তাজিকিস্তানে ছিল এবং এটি পৃথিবীর ভূত্বকের ১১০ কিলোমিটার গভীরে ঘটেছিল। ভূমিকম্পের কোঅর্ডিনেট ছিল ৩৮.২৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৭৩.৪২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। ভূমিকম্পের কম্পন জম্মু ও কাশ্মীরে অনুভূত হলেও, কোথাও কোনো হতাহতের বা সম্পত্তির ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি,” বলেন মুকতার আহমেদ।

কাশ্মীরের গন্দেরবাল জেলার কিছু এলাকায় বসবাসকারী মানুষরা জানিয়েছেন, তারা রান্নাঘরের পাত্র-পূরীর ঝাঁকুনিতে ঘুম থেকে উঠে ভূমিকম্পের অনুভূতি পেয়েছেন। কাশ্মীর সেসমোলজিক্যাল দিক থেকে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। অতীতে এখানে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে।

২০০৫ সালের ৮ অক্টোবর, সকাল ৮:৫০ মিনিটে ৭.৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছিল, যার উৎসস্থল ছিল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদ শহরের ১৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ওই ভূমিকম্পে ৮০,০০০ এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং মুজাফফরাবাদ শহর সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীরেও হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং আফটারশক চলেছিল প্রায় এক মাস।

কাশ্মীরের ভূমিকম্পের ইতিহাসে একাধিক বড় আঘাতের ঘটনা ঘটেছে, যেমন ১৮৮৫ সালের বাড়ামুল্লা ভূমিকম্প, যেটি ৩০ মে শ্রীনগরে ঘটেছিল। এটি ৬.৩-৬.৮ মাত্রার ছিল, যার ফলে অন্তত ৩,০৮১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।

এছাড়া, কাশ্মীর উপত্যকায় অতীতে আরও বড় ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে, যেমন ১৫৫৫ সালে ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প, ১৬৬৯ সালে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প, ১৭৭৯ সালে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, এবং ১৮৮৫ সালে আবার ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, যা ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছিল।

Leave a Reply