লখনউ, ৭ জানুয়ারি : উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পরেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া তালিকায় দেখা যাচ্ছে, লখনউয়ে সবচেয়ে বেশি ১২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই তালিকায় লখনউ জেলার মোট ভোটারের ৩০ শতাংশেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। এর পরেই রয়েছে গাজ়িয়াবাদ, যেখানে ৫ লক্ষ ৮৩ হাজার ভোটারের (প্রায় ২৯ শতাংশ) নাম বাদ গেছে। এছাড়াও, বারাণসী এবং গোরক্ষপুর জেলাতেও বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬, নির্বাচন কমিশন উত্তরপ্রদেশে এসআইআর-এর (সর্বশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন) খসড়া প্রকাশ করেছে। খসড়া তালিকার অনুযায়ী, প্রায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই তালিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে লখনউয়ে, যেখানে গত বছর অক্টোবরে মোট ৩৯ লক্ষ ৯৪ হাজার ভোটার ছিলেন। কিন্তু খসড়া তালিকায় লখনউয়ের ভোটারের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৭ লক্ষ ৯৪ হাজার। এর মধ্যে ১.২৮ লক্ষ ভোটার মৃত, ৪.২৮ লক্ষ ভোটারের সন্ধান মেলেনি এবং ৫.৩৬ লক্ষ ভোটার স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গেছেন।
বারাণসী জেলা থেকে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৫.৭৩ লক্ষ ভোটারের নাম, যা গত বছরের অক্টোবরের ৩১ লক্ষ ৫৩ হাজার ভোটারের প্রায় ১৮.১৮ শতাংশ। বারাণসী জেলা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংসদীয় এলাকা হওয়ায়, এই তথ্য বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। গোরক্ষপুরে ৬ লক্ষ ৪৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ গেছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ১৭.৬১ শতাংশ। এই জেলা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সংসদীয় এলাকা।
গাজ়িয়াবাদে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৫.৮৩ লক্ষ ভোটারের নাম, এর মধ্যে ৬৪ হাজার মৃত ভোটার, ৩.২০ লক্ষ ভোটারের সন্ধান মেলেনি এবং ৩.৬০ লক্ষ ভোটার স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গেছেন। গাজ়িয়াবাদ জেলা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২৯ শতাংশ।
এছাড়াও, বলরামপুর, কানপুর এবং প্রয়াগরাজ জেলা থেকে যথাক্রমে ২৬ শতাংশ, ২৫.৫ শতাংশ এবং ২৪.৬৪ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, খসড়া তালিকার এই বিশাল পরিবর্তন ভোটার তালিকা যথাযথ ও সঠিক করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তবে, তাতে অনেক ভোটারের নাম বাদ পড়ায় বিভ্রান্তি এবং অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। কমিশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাদ পড়া ভোটাররা নিজেদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।
এদিকে, রাজনৈতিক মহলে এই ব্যাপারে নানা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী দলগুলি দাবি করেছে যে, নাম বাদ যাওয়ার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয় এবং এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ভুলভাল প্রভাব ফেলতে পারে।

