আগরতলা, ৭ জানুয়ারি: দীর্ঘদিন ধরে পুনর্বাসন প্রকল্প পুনরায় চালু করা এবং মূলস্রোতে ফিরে আসা প্রাক্তন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত মুলতুবি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজ্য সরকার তালবাহানা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি সংগঠনগুলি। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই বিষয়গুলির সুরাহা না হলে আগামী দিনে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হবে। আজ আগরতলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনগুলির নেতৃত্ব রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, একাধিকবার দাবি জানানো সত্ত্বেও সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেনি কিংবা কোনও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
সংগঠনের নেতারা জানান, গত ২২ ডিসেম্বর দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তারা অসম-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করেছিলেন। সেই সময় জিরানিয়া মহকুমা শাসক তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে জানান যে, জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার পক্ষ থেকে তাঁকেই আলোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ২৩ ডিসেম্বর মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আশ্বাস দেওয়া হয়। এই আশ্বাসের ওপর ভরসা রেখেই বৃহত্তর জনস্বার্থে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয় বলে দাবি করেন নেতারা। তবে নির্ধারিত দিনে কেন্দ্রীয় কমিটির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর কনফারেন্স হলে পৌঁছালে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের ডিরেক্টরের কাছ থেকে জানতে পারেন যে, জরুরি বৈঠকের কারণে মন্ত্রী ছাওমানুতে গিয়েছেন।
এ ঘটনাকে ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ বলে অভিহিত করে সংগঠনগুলির নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, তিনি একজন মন্ত্রী, আমাদের কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই কথা রাখেননি। এ ধরনের অবহেলা আমরা কখনও আশা করিনি। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে যদি জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় না বসেন, তবে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে তাঁরা বাধ্য হবেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনগুলি তাদের প্রধান দাবিগুলি পুনরায় তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে, ২০০৭ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার ঘোষিত ৪৫ কোটি টাকার পুনর্বাসন প্যাকেজের বাকি ২৩ কোটি টাকা অবিলম্বে মুক্তি, মুখ্যমন্ত্রীর রাবার মিশনের অধীনে বেড়া সহায়তার পরিমাণ আগের মতো বছরে ১৬,৮০০ টাকায় ফিরিয়ে আনা (বর্তমানে যা কমিয়ে ৬,০০০ টাকা করা হয়েছে), এবং আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত বিচারাধীন মামলা প্রত্যাহার।
সংগঠনগুলির আন্দোলনের হুমকিতে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আগেই সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

