ইন্দোর, ৭ জানুয়ারি : মধ্যপ্রদেশের পানীয় জল পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত নতুন রিপোর্টে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। কেন্দ্রের ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জলের গুণমান তীব্র সংকটে। জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রদেশের মাত্র ৬৩.৩ শতাংশ পানীয় জলের নমুনা গুণমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, যা জাতীয় গড়ের ৭৬ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। এ ছাড়াও, রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জলের ৩৬.৭ শতাংশ নমুনা পানের অযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির ফলে মধ্যপ্রদেশে বিষাক্ত পানীয় জল পান করে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে অনেকেই বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রে দাবি, মৃতের সংখ্যা ১৮। বর্তমানে প্রায় ৪২৯ জন চিকিৎসাধীন, তাঁদের মধ্যে ১৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এই রিপোর্টে বলা হয়, রাজ্যের গ্রামীণ অঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ পানীয় জল মানুষের ব্যবহারের অনুপযুক্ত। বিশেষত, মধ্যপ্রদেশের আদিবাসী অঞ্চলগুলিতে – যেমন অনুপ্পুর এবং দিন্দোরি – পানীয় জলের কোনও নিরাপদ নমুনা পাওয়া যায়নি। বালাঘাট, বেতুল ও ছিন্দওয়ারার মতো অঞ্চলেও ৫০ শতাংশেরও বেশি জল ব্যবহার অযোগ্য।
সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিত্র আরও খারাপ। সেখানে মাত্র ১২ শতাংশ জলের নমুনা মাইক্রোবায়োলজিক্যাল সুরক্ষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, যা জাতীয় গড়ের ৮৩.১ শতাংশের তুলনায় বিপজ্জনকভাবে কম। এর অর্থ হলো, মধ্যপ্রদেশের প্রায় ৮৮ শতাংশ হাসপাতালে রোগীদের পানের অযোগ্য জল সরবরাহ করা হচ্ছে।
এছাড়া, রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও পানীয় জল অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে শিশু-কিশোরদের ২৬.৭ শতাংশ পানীয় জল নমুনা মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এই পরিস্থিতি কেন্দ্রীয় সরকার ‘সিস্টেম-সৃষ্ট বিপর্যয়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং সতর্কতা দিয়েছে যে, যদি পানীয় জলের গুণমানের কোনও উন্নতি না হয়, তবে আগামী অর্থবর্ষে এ বিষয়ে বরাদ্দ কমানো হতে পারে।
এদিকে, ইন্দোরের ভাগীরথপুরায় বিষাক্ত জল পান করে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় হইচই পড়ে গেছে। মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হলেও, পানীয় জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরও পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হচ্ছে।

