নয়াদিল্লি, ৬ জানুয়ারি: সুপ্রিম কোর্ট গুজরাত হাই কোর্টের ২০১৯ সালের একটি বিতর্কিত রায় খারিজ করে আদানি পাওয়ারকে বড় রেহাই দিয়েছে। শীর্ষ আদালত আদানি পাওয়ার লিমিটেডকে ২০১০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জমা দেওয়া শুল্কের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসাথে, আদানি পাওয়ারের উপর আর কোনও শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি নেই বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ গুজরাত হাই কোর্টের ২০১৯ সালের রায় খারিজ করে আদানি গোষ্ঠীকে স্বস্তি দেয়। গুজরাত হাই কোর্টের ২০১৯ সালের রায়ের ফলে আদানি পাওয়ারকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) থেকে অভ্যন্তরীণ শুল্ক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের উপর কর আরোপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর পরই আদানি গোষ্ঠী সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে।
বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ জানায়, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে গুজরাত হাই কোর্ট ২০০৯ সালের ২৬ জুন থেকে ২০১০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরবরাহ করা বিদ্যুতের উপর এই শুল্ক আদায়কে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। পরে তাদের উপর কর আরোপের নির্দেশ দেওয়া হয়, যা শীর্ষ আদালত খারিজ করল।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ আরও বলে, “যখন ২০১৫ সালের রায়ে এই শুল্ককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে এবং শীর্ষ আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করেনি, তখন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কর্তব্য ছিল সেই ঘোষণাকে মেনে চলা।” আদালত আরও জানায়, “বিচারবিভাগীয় রায় কোনও পরামর্শমূলক মতামত নয়, এটি আইনের বাধ্যতামূলক আদেশ।”
আদানি পাওয়ার গুজরাতের মুন্ড্রা এসইজেড-এ প্রায় ৫,২০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা করে। ২০১৯ সালের হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আদানি পাওয়ারকে ২০১৫ সালের রায় অনুসরণ করার পরিবর্তে বিষয়টি বড় বেঞ্চে পাঠাতে পারত।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে আদানি গোষ্ঠীকে গুরুত্বপূর্ণ আইনি জয় মিলল এবং শুল্ক কর্তৃপক্ষকে আদানি পাওয়ারের জমা দেওয়া শুল্কের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

