দীপথূন উপলক্ষে থিরুপ্পারানকুন্ড্রাম পাহাড়ে প্রদীপ প্রজ্বালনে ছাড়পত্র, একক বিচারপতির রায় বহাল হাইকোর্টে

মাদুরাই ৬ জানুয়ারি : দীপথূন উপলক্ষে থিরুপ্পারানকুন্ড্রাম পাহাড়ে আনুষ্ঠানিক প্রদীপ প্রজ্বালনের অনুমতি দিয়ে একক বিচারপতির দেওয়া রায় বহাল রাখল মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ। মঙ্গলবার বিচারপতি জি জয়চন্দ্রন ও বিচারপতি কে কে রামকৃষ্ণনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, বিষয়টি আগের কোনও মামলায় চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়ায় ‘রেস জুডিকাটা’ নীতির আওতায় পড়ে না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগে হওয়া মামলাগুলিতে এই নির্দিষ্ট প্রশ্নে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাই একক বিচারপতির নির্দেশে আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছে বেঞ্চ।

দীর্ঘদিন ধরেই থিরুপ্পারানকুন্ড্রাম পাহাড়কে বিভিন্ন ধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এই পাহাড়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক সুব্রামণিয়া স্বামী মন্দির, কাশী বিশ্বনাথর মন্দির এবং পরে নির্মিত সিকন্দর বাদুশা দরগাহ।

এর আগে এক সমাজকর্মীর আবেদনের পর বিচারপতি জি আর স্বামীনাথন রাজ্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, যাতে পাহাড়ের চূড়ায় পবিত্র প্রদীপ প্রজ্বালন নিশ্চিত করা হয়। সেই সঙ্গে আবেদনকারী ও আরও দশজনকে থিরুপ্পারানকুন্ড্রাম পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত দীপম স্তম্ভ পর্যন্ত গিয়ে কার্ত্তিকাই দীপম জ্বালানোর অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে রাজ্য প্রশাসনের দাবি ছিল, এই নির্দেশ দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রীতির পরিপন্থী। প্রশাসনের মতে, বহু বছর ধরেই পাহাড়ের কাছাকাছি দীপ মণ্ডপমে প্রদীপ জ্বালানো হয়ে আসছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখিয়ে রাজ্য সরকার একক বিচারপতির এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে থিরুপ্পারানকুন্ড্রামে উত্তেজনা ছড়ায়, যখন এক সাংসদের বিরুদ্ধে পাহাড়ে মাংস ভোজনের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদে একাধিক হিন্দু সংগঠন বিক্ষোভ দেখায়। সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি থিরুপ্পারানকুন্ড্রামকে ‘দক্ষিণের অযোধ্যা’ বলেও আখ্যা দিয়েছে, যা বিতর্ক আরও উসকে দেয়।

আইনি দিক থেকে সুব্রামণিয়া স্বামী মন্দির কর্তৃপক্ষ ১৯২০ সালের একটি আদালতের রায়ের ভিত্তিতে প্রায় পুরো পাহাড়ের মালিকানা দাবি করে। অন্যদিকে, দরগাহ কর্তৃপক্ষ মসজিদ ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলির উপর তাদের স্বীকৃত অধিকার রয়েছে বলে জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় থিরুপ্পারানকুন্ড্রাম ইস্যুতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

Leave a Reply