গিলগিট-বালটিস্তানে ফের উত্তেজনা, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত

নয়া দিল্লি, ৫ জানুয়ারি : পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালটিস্তানে ফের বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিফ মুনিরের নেতৃত্বে পরিচালিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে সেখানকার যুবসমাজ, বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্ম, বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। তরুণদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও আন্দোলনে যোগ দিয়েছে, ফলে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তানের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ‘ডন’ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার গিলগিট-বালটিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের বাইরে হাজার হাজার মানুষের জমায়েত ঘটে। নির্বাচনের আগে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তত্ত্বাবধায়ক মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্দেশ্য ছিল জনরোষ সামাল দেওয়া, কিন্তু সেখানে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়োগ করা হচ্ছে। এতে জনগণের স্বার্থ বাদ দিয়ে দলীয় স্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রক্রিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করেছে।

এদিনের বিক্ষোভের পর গিলগিট শহরের গুরুত্বপূর্ণ চিনারবাগ রিভার রোড দীর্ঘ সময় অচল হয়ে পড়ে এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ জনজীবন কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং জিবি ইউথ মুভমেন্ট এর চেয়ারম্যান আজফার জামসেদসহ অন্তত আট জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আন্দোলনকারীরা আরও তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত আলোচনায় যুবসমাজের মতামত উপেক্ষা করা হয়, তবে আন্দোলন আরও ব্যাপক ও সহিংস রূপ নিতে পারে।

গিলগিট-বালটিস্তানে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা ব্যবস্থা, পরিকাঠামো, পানীয় জলের অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত সেখানকার বাসিন্দারা। এর ওপর রয়েছে সরকারি দফতরে অবহেলা, দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগ, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চল থেকে রাজস্ব আদায় করা হলেও উন্নয়ন কাজে স্থানীয়দের কোনও অংশ থাকে না।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এই ক্ষোভ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল, যখন সরকারের বিরুদ্ধে চলা আন্দোলন দমন করতে পুলিশ গুলি চালায়, যার ফলে বহু সাধারণ নাগরিক নিহত হয়। যদিও এরপর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল, তবে ক্ষত এখনও সারেনি। বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া নতুন আন্দোলন পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে ইঙ্গিত করছে।

Leave a Reply