প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী : সোমনাথ মন্দির গত কয়েক শতাব্দী ধরে ভারতীয় সভ্যতার অজেয় আত্মার প্রতীক

নয়াদিল্লি, ৫ জানুয়ারি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন যে, গত কয়েক শতাব্দী ধরে সোমনাথ মন্দিরে বিভিন্ন আক্রমণের পরেও এটি ভারতীয় সভ্যতার আত্মার জীবন্ত উদাহরণ হিসেবে গর্বের সাথে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর কারণ আজ থেকে হাজার বছর আগে বিদেশি আক্রমণকারীরা সোমনাথ মন্দিরে প্রথম আক্রমণ করেছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সোমনাথ” শব্দটি শুনলেই ভারতবাসীর মনে অদ্ভুত সাহস এবং গর্বের অনুভূতি জাগে। তিনি বলেন, দেশের চিরন্তন ঐতিহ্যের প্রতীক সোমনাথ মন্দির গুজরাট রাজ্যের পশ্চিম তটের প্রভাস পাটনে অবস্থিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোমনাথ মন্দিরের ইতিহাস শুধু একটি কাহিনী নয়, বরং এটি ভারতের অগণিত সন্তানের অবিচল সাহসের প্রতীক, যারা দেশের সভ্যতা এবং সংস্কৃতির রক্ষা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ১০২৬ সালের জানুয়ারিতে মহমুদ গজনি সোমনাথ মন্দিরে প্রথম আক্রমণ করেন। মোদী বলেন, হাজার বছর পরেও আজও এই মন্দির গর্বের সাথে দাঁড়িয়ে রয়েছে কারণ এর নিরাপত্তা এবং মর্যাদার জন্য অগণিত প্রচেষ্টা করা হয়েছে।

সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণে অবদান রাখা ব্যক্তিদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ২০২৬ সালে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হবে, যখন পুনর্নির্মাণের পর মন্দিরটি পূণ্যার্থীদের জন্য ৭৫ বছর পূর্ণ করবে। তিনি বলেন, ১৯৫১ সালের মে মাসে তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ উপস্থিত থেকে সোমনাথ মন্দিরের পুনর্নির্মাণ করেছিলেন এবং এটি আবার খোলা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, স্বাধীনতা সংগ্রামের পর, সর্দার প্যাটেলকে সোমনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি স্মরণ করান, ১৯৪৭ সালের দীপাবলিতে সর্দার প্যাটেল সোমনাথ মন্দিরে সফর করেছিলেন, যা তাকে অত্যন্ত প্রভাবিত করেছিল, এবং সেই কারণেই তিনি মন্দিরটির পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী জানান, তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এই পদক্ষেপের বিপক্ষে ছিলেন এবং তিনি চাননি যে প্রধান সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত হোক। তিনি বলেন, এই ঘটনার কারণে ভারতের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তবে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ দৃঢ় ছিলেন এবং পরবর্তী যা ঘটেছিল তা ইতিহাস হয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদী সোমনাথ এবং কাশি বিশ্বনাথসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন মন্দিরের পুনর্নির্মাণে আহিল্যাবাই হোলকরের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি স্বামী বিবেকানন্দের ১৮৯০-এর দশকে সোমনাথ সফরের কথা স্মরণ করেন এবং তার ১৮৯৭ সালের চেন্নাই বক্তৃতার উদ্ধৃতি দেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন, “সোমনাথের মতো মন্দিরগুলি ভারতের ইতিহাস এবং আত্মা সম্পর্কে অনেক বইয়ের চেয়ে বেশি তথ্য দেয়।”

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আজও সোমনাথে মানুষের মন এবং আত্মাকে উদ্দীপিত করার সেই শক্তি রয়েছে।” তিনি বলেন, অতীতের আক্রমণকারীরা এখন বাতাসে উড়ে যাওয়া ধুলোর মতো, যাদের কেবল ধ্বংসের জন্য মনে রাখা হয়। তিনি বলেন, “তারা ইতিহাসের পৃষ্ঠায় পিছনে পড়ে গেছে, কিন্তু সোমনাথ আজও এক আলোপুঞ্জ হিসেবে বিরাজমান।” তিনি আরও বলেন, “সোমনাথ আশা এবং বিশ্বাসের গান, যা মানুষকে শেখায় যে, ঘৃণা এবং সাম্প্রদায়িকতা এক মুহূর্তের জন্য ধ্বংস করতে পারে, কিন্তু ভালবাসা এবং দৃঢ় বিশ্বাস চিরস্থায়ী সৃষ্টি করতে পারে।”

প্রধানমন্ত্রী মোদী উল্লেখ করেন যে, পৃথিবী আজ ভারতকে আশাবাদী ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছে। তিনি বলেন, ভারতের শিল্প, সংস্কৃতি, সঙ্গীত এবং বিভিন্ন উৎসব বিশ্বব্যাপী পরিচিতি অর্জন করছে, এবং যোগ ও আয়ুর্বেদও সুস্থ জীবনযাত্রা প্রচার করে বিশ্বে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

Leave a Reply