প্রয়াগরাজ, ৫ জানুয়ারী: চলমান মাঘ মেলার তৃতীয় দিনে রবিবার ভোর থেকেই গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতীর সঙ্গমস্থলে পুণ্যস্নানের জন্য ভক্তদের ঢল নেমেছে। ৪৪ দিনব্যাপী এই মেলা শুরু হয়েছে ৩ জানুয়ারি, পৌষ পূর্ণিমার শুভ স্নানের মধ্য দিয়ে।
হায়দরাবাদ থেকে আসা এক ভক্ত জানান, “আমরা আগে মহাকুম্ভে এসেছিলাম। এবার মাঘ মেলায় পুণ্যস্নানের জন্য এসেছি। স্নান সেরে আজ রাতে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে দর্শন করব। আগামীকাল অযোধ্যায় রাম মন্দিরে দর্শন করে হায়দরাবাদে ফিরব। যোগী সরকার খুব ভালো ব্যবস্থা করেছে।”
আরেক ভক্ত বলেন, “মাঘ মেলার নিজস্ব এক আলাদা আধ্যাত্মিক আকর্ষণ আছে। প্রশাসন আগেরবারের মতো এবারও চমৎকার আয়োজন করেছে।”
ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও যাতায়াত ব্যবস্থার প্রশংসা করে তৃতীয় এক ভক্ত জানান, “সরকার খুব দক্ষতার সঙ্গে ভিড় সামলাচ্ছে। ট্রাফিক ও যানবাহন ব্যবস্থাপনা প্রশংসনীয়। এখানে কোনও অসুবিধা নেই—সব ব্যবস্থাই চমৎকার।”
মেলা এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে কড়া ব্যবস্থা। প্রায় ৮০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত মেলাক্ষেত্রকে সাতটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। যানবাহনের চাপ সামাল দিতে ৪২টি নির্ধারিত স্থানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো মেলা এলাকায় ১৭টি থানা, ৪২টি পুলিশ আউটপোস্ট এবং একটি বিশেষ পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। নজরদারির জন্য বসানো হয়েছে প্রায় ৪০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। প্রয়াগরাজের জেলাশাসক মনীশ ভার্মা জানান, মেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।
যাতায়াত সুবিধার জন্য উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সড়ক পরিবহণ নিগমের প্রায় ৩,৮০০টি বাস মোতায়েন করা হয়েছে। মেলায় মোট ছয়টি প্রধান স্নানপর্ব থাকবে, যা মহাশিবরাত্রির পুণ্যস্নানের মাধ্যমে শেষ হবে।
উত্তরপ্রদেশের সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী জয়বীর সিং বলেন, “মাঘ মেলা শুধু ধর্মীয় সমাবেশ নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রকাশ।”
চলতি বছরের গুরুত্বপূর্ণ স্নানতারিখগুলি হল—মকর সংক্রান্তি (১৪ জানুয়ারি), মৌনী অমাবস্যা (১৮ জানুয়ারি), বসন্ত পঞ্চমী (২৩ জানুয়ারি), মাঘী পূর্ণিমা (১ ফেব্রুয়ারি) এবং মহাশিবরাত্রি (১৫ ফেব্রুয়ারি)।

