প্রজাতন্ত্র দিবসে কর্তব্যপথে হাঁটবে সেনার সারমেয়রা, ইতিহাসে এই প্রথম

নয়া দিল্লি, ৫ জানুয়ারি : ভারতের ইতিহাসে এই প্রথমবার প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে সেনার সারমেয়দের অংশগ্রহণের নজির তৈরি হতে চলেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, এবার কর্তব্যপথে হাঁটবে বিভিন্ন ধরনের সেনা-কুকুর, বিশেষ প্রজাতির ঘোড়া, ব্যাকট্রিয়ান উট এবং শিকারি পাখি, যা ভারতীয় সেনার নতুন সঙ্গী হয়ে উঠেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়, এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেবে দুটি ব্যাকট্রিয়ান উট, চারটি জাংস্কার প্রজাতির ঘোড়া, চারটি শিকারি পাখি এবং দশটি দেশি সেনা-কুকুর। এ ছাড়া থাকবে আরও ছয়টি বিদেশি প্রজাতির সেনা-কুকুর। এই বাহিনী দেশের সেনার ক্ষমতা এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে প্রমাণিত হবে, যা ভারতীয় সেনাবাহিনীর শক্তি এবং অগ্রগতির নিদর্শন হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো উপস্থিত থাকবে লাদাখ অঞ্চলের বিশেষ ধরনের ব্যাকট্রিয়ান উট। এই উটগুলি ১৫,০০০ ফুট উচ্চতায় সেনার সরঞ্জাম বহন করে থাকে এবং এক একটি উট ২৫০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত সেনা সরঞ্জাম বহন করতে সক্ষম।

সেনার কুচকাওয়াজে অংশ নিতে চলেছে লাদাখের বিশেষ প্রজাতির জাংস্কার ঘোড়া। এই ঘোড়াগুলি ভারী সামগ্রী বহনের জন্য পরিচিত এবং লাদাখের খরা পরিবেশে অক্সিজেনের অভাবেও কাজ করে থাকে। এছাড়া, সেনা কর্তৃপক্ষের মতে, শিকারি পাখি বিশেষভাবে পাহাড়ি অঞ্চলে নজরদারি কাজে ব্যবহৃত হয়।

ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন দেশি কুকুরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তৈরি করছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বিদেশি কুকুরের তুলনায় দেশি কুকুরের সংখ্যা বেড়েছে এবং তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেমন মাইন খোঁজা, অনুসন্ধান, এবং নিরাপত্তা রক্ষা।

এই সমস্ত উদ্যোগের মাধ্যমে, ভারতীয় সেনা নিজেদের শক্তি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে, যা দেশের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতীক হিসেবে দাঁড়াচ্ছে।

Leave a Reply