নয়াদিল্লি, ২৫ ডিসেম্বর : আগামী ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে কিম্বারলি প্রসেস (KP)-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবে ভারত। কিম্বারলি প্রসেস প্লেনারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে এই দায়িত্ব পেয়েছে ভারত, বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক।
মন্ত্রক জানিয়েছে, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে ভারত কিম্বারলি প্রসেসের ভাইস-চেয়ারের ভূমিকা পালন করবে এবং নতুন বছরের শুরুতেই আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যানশিপ গ্রহণ করবে। এটি তৃতীয়বার, যখন এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব ভারতের উপর ন্যস্ত হল।
উল্লেখ্য, কিম্বারলি প্রসেস একটি ত্রিপাক্ষিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো, যেখানে সরকার, আন্তর্জাতিক হিরে শিল্প এবং নাগরিক সমাজ একসঙ্গে কাজ করে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল তথাকথিত ‘সংঘাতের হিরে’ বা কনফ্লিক্ট ডায়মন্ড-এর বাণিজ্য রোধ করা—যে হিরেগুলি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি সশস্ত্র সংঘাতের অর্থ জোগাড়ে ব্যবহার করে থাকে। এই সংজ্ঞা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুযায়ী নির্ধারিত।
ভারতের নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলের ভারতের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে স্বচ্ছতা, সততা এবং দায়িত্বশীল বাণিজ্য চর্চার প্রতি ভারতের অঙ্গীকারই এই নির্বাচনের মূল কারণ।
২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া কিম্বারলি প্রসেস সার্টিফিকেশন স্কিম জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। বর্তমানে এটি সংঘাতের হিরে বাণিজ্য রুখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। কিম্বারলি প্রসেসে বর্তমানে ৬০টি অংশগ্রহণকারী রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তার সদস্য দেশগুলিকে একক অংশগ্রহণকারী হিসেবে ধরা হয়। সব মিলিয়ে, এই দেশগুলির মাধ্যমে বিশ্বের মোট রাফ হিরে বাণিজ্যের ৯৯ শতাংশেরও বেশি পরিচালিত হয়।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান হিরে কাটিং ও প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে ভারতের নেতৃত্ব গ্রহণ এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন বিশ্বজুড়ে টেকসই ও দায়িত্বশীল উৎস থেকে হিরে সংগ্রহের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভারতের চেয়ারম্যানশিপের সময়কালে শাসনব্যবস্থা ও নিয়ম মানার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা, ডিজিটাল সার্টিফিকেশন ও ট্রেসেবিলিটি উন্নত করা, তথ্যভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সংঘাতমুক্ত হিরের প্রতি ভোক্তাদের আস্থা বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভাইস-চেয়ার এবং ২০২৬ সালে চেয়ার হিসেবে ভারত কিম্বারলি প্রসেসের সমস্ত অংশগ্রহণকারী ও পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। এর লক্ষ্য হবে সার্টিফিকেশন স্কিমের উপর আস্থা বাড়ানো, নিয়মভিত্তিক অনুগমন নিশ্চিত করা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিক কাঠামো হিসেবে কিম্বারলি প্রসেসের বিশ্বাসযোগ্যতা ও কার্যকারিতা আরও শক্তিশালী করা।

