চুরাইবাড়ি, ৩ ডিসেম্বর: অসম–ত্রিপুরা সীমান্তের চুরাইবাড়ি গেটে নেশা বিরোধী তল্লাশি অভিযানের কারণে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। অত্যাধুনিক স্ক্যানিং বা চেকিং ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন শত শত গাড়ি দীর্ঘ লাইনে আটকে পড়ছে, নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান পণ্য, আর ভোগান্তিতে পর্যুদস্ত হচ্ছেন বহিঃরাজ্যের লরি চালক থেকে শুরু করে ছোট-বড় গাড়ির চালকরা।
প্রশাসনের দাবি, সম্প্রতি অসম চেকপোস্টে বড়সড় গাঁজা উদ্ধারের পর শীর্ষ মহলের নির্দেশে সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। ফলে চুরাইবাড়ি গেটে চলছে কড়া চিরুনি তল্লাশি। কিন্তু থানা সংলগ্ন এলাকায় যথেষ্ট খালি জায়গা না থাকায় গাড়িগুলোকে জাতীয় সড়কের ওপরই দাঁড় করিয়ে চেক করতে বাধ্য হচ্ছে পুলিশ। এতে দিনের পর দিন লেগে যাচ্ছে ব্যাপক যানজট।
লরি চালকদের অভিযোগ, বিটুমিন বোঝাই গাড়ি এলেই শ্রমিকরা লোহার রড দিয়ে প্লাস্টিক ড্রাম খুঁচিয়ে পরীক্ষা করছেন। এর ফলে চার থেকে পাঁচটি ড্রাম প্রায়ই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ক্ষতির পরিমাণ পৌঁছাচ্ছে লক্ষাধিক টাকায়। ফলে ব্যবসায়ীরাও পড়ছেন বিপাকে।
দীর্ঘদিন একই পরিস্থিতি চলতে থাকায় ক্ষুব্ধ লরি চালকেরা রাস্তাতেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। তাদের অভিযোগ— চার-পাঁচ দিন পর্যন্ত লাইনে আটকে থাকতে হয়। নেই পানীয় জল, শৌচালয় বা বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা। নেই থাকার বা খাবারের উপযুক্ত ব্যবস্থা। রোগী নিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সসহ নিত্যযাত্রী গাড়িও একই দুর্ভোগে পড়ছে।
চালকদের আরও অভিযোগ, কিছু স্থানীয় দালাল টাকা নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু লরিকে ওভারটেক করিয়ে আগে পার করিয়ে দিচ্ছে। এতে বাকি গাড়িগুলো ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় আটকে থাকে, অনেক ছোট মালবাহী গাড়ির ট্রিপ পর্যন্ত মিস হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী চালকদের দাবি, চুরাইবাড়ি গেটে দ্রুত আধুনিক স্ক্যানার মেশিন বসিয়ে স্বল্প সময়ে কার্যকর ও ক্ষতিহীন চেকিং ব্যবস্থা চালু করা হোক। এবার নজর সবারই— প্রশাসন এই সংকট মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

