রাজা রামমোহন রায়কে অপমানের অভিযোগে মধ্যপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা প্রদেশ কংগ্রেসের

আগরতলা, ২১নভেম্বর:
ভারতে সতীদাহ প্রথা বন্ধে রাজা রামমোহন রায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে মধ্যপ্রদেশ সরকারের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ইন্দর সিং পারমারের বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি। শুক্রবার দলের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, বিজেপি ও আরএসএস—উভয় সংগঠনই “মনুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি” বহন করে এবং সেই কারণেই সমাজসংস্কারক রামমোহন রায়ের অবদান তারা মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারে না।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, সতীদাহ প্রথা বন্ধে রামমোহন রায়ের উদ্যোগ ছিল ভারতীয় সমাজে মানবতা, নৈতিকতা ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। অথচ বিরসা মুন্ডার ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মধ্যপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, “রামমোহন রায় ব্রিটিশদের দালাল ছিলেন এবং হিন্দুদের ধর্ম পাল্টানোর কাজে সহায়তা করেছিলেন।”

কংগ্রেস এই বক্তব্যকে “ইতিহাস বিকৃতি” বলে আখ্যা দিয়েছে।
ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, বিরসা মুন্ডার জন্ম রামমোহন রায়ের মৃত্যুর ৪২ বছর পর—অতএব দুই ব্যক্তিকে একই প্রেক্ষাপটে দেখানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দলটি অভিযোগ করেছে যে বিজেপি-শাসিত কিছু রাজ্যে এখনো সতীদাহ-সদৃশ কর্মের নজির দেখা যায়, যা মনুবাদী মতাদর্শের প্রভাবকে নির্দেশ করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিজেপি শাসনকালে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং আর্থিক–সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ‘জাতীয় মহিলা সুরক্ষা সম্পর্কিত কমিটি’র রিপোর্টে বলা হয়েছে—দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ নারী নিরাপত্তাহীনতার শিকার; বাস্তবে এই হার আরও বেশি হতে পারে। জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনও ওই রিপোর্টের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, “নারী সমাজের প্রতি আরএসএস– বিজেপি-এর বিদ্বেষমূলক মানসিকতা দেশে ও রাজ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই ধরনের মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”