পাটনা, ১৪ নভেম্বর : ভোট কৌশলী হিসেবে বহু রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী বানানোর দাবি করলেও নিজের রাজ্যে নিজেই সফল হতে পারলেন না প্রশান্ত কিশোর। বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল জন সুরাজ পার্টি অত্যন্ত খারাপ ফল করেছে। ফলে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে, কোথায় ভুল করলেন পিকে?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতিগত সমীকরণ থেকে প্রার্থী বাছাই, বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রশান্ত কিশোর মারাত্মক ভুল করেছেন। প্রথমবারের মতো বড় রাজনৈতিক পরীক্ষায় নামা পিকে–র কৌশল মাঠে নেমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, এই নির্বাচনে জন সুরাজ পার্টিকে অনেকেই তৃতীয় ফ্রন্ট হিসেবে দেখছিলেন। কারণ শুরুতে পিকে যেসব ইস্যু সামনে এনেছিলেন, তা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবন–যাত্রার সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু, সবচেয়ে বড় ভুল ছিল পুরো প্রচার-ব্যবস্থা সোশ্যাল মিডিয়া আর তরুণদের ওপর নির্ভর করে চালানো। বিহারের বিস্তৃত গ্রামীণ বাস্তবতায় দলের কোনো শক্ত জমি তৈরি হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের কাছে বুথ ম্যানেজমেন্ট পর্যন্ত করার মতো বিএলএ পর্যন্ত ছিল না। স্থানীয় যাঁদের টিকিটের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অনেককেই পরে বাদ দেওয়ায় অসন্তোষ দেখা দেয়। ফলে পুরো নির্বাচন পরিচালনা হয়েছে ভাড়া করা কর্মী ও সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নির্ভর করে। সাথে আরও দাবি, শুরুতে প্রশান্ত কিশোরকে বিজেপির ‘বি টিম’ বলা হচ্ছিল। নীতীশ কুমার ও জেডিইউর বিরুদ্ধে প্রশান্ত যত বেশি আক্রমণ করেছেন, ফলাফল হয়েছে উল্টো। এতে সবচেয়ে বেশি লাভ জেডিইউ–ই পেয়েছে। সবচেয়ে বড় ভুল ছিল, নিজে নির্বাচন না লড়া। কারণ, তিনি জানতেন হারলে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু ভোটারদের বড় অংশ এটিকে নেতৃত্বহীনতা মনে করে হতাশ হয়েছেন।
অভ্যন্তরীণ কোন্দলও জন সুরাজ পার্টিকে দুর্বল করেছে। দলের ভেতরে বারবার মতবিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় কর্মীদের মনোবল তলানিতে নেমে যায়। পিকে–র ব্যক্তিগত আচরণের কারণেও অনেক নেতা তাঁর সঙ্গে স্বচ্ছন্দ বোধ করেননি। মোদ্দা কথা হল, জাতিগত সমীকরণকে সঠিকভাবে ধরতে ব্যর্থতা, শুধু সোশ্যাল মিডিয়া ও ইনফ্লুয়েন্সারের ওপর ভরসা করে নির্বাচন পরিচালনা, নিজে নির্বাচন না লড়ায় নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হওয়া, বুথ স্তরে দলের কোনো সংগঠন না থাকা এবং প্রার্থী নির্বাচনে অস্বচ্ছতা ও অসন্তোষ তৈরি হওয়া প্রশান্ত কিশোরকে রাজনীতির ময়দানে নামার আগেই প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে দিয়েছে।

