পাটনা, ১৪ নভেম্বর : বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে ভুলের পাহাড়ে চাপা পড়েছে মহাগঠবন্ধন। ফলে, স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যে এনডিএ ঐতিহাসিক জনাদেশ পেয়েছে। মহাগঠবন্ধন একেবারেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। অবশ্য, এই ফলাফলের জন্য মহাগঠবন্ধনের একাধিক ভুল সিন্ধান্তই দায়ী বলে দাবি করা হচ্ছে। তেজস্বী যাদবকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করে লড়াইয়ে নেমে জোট বেশ কয়েকটি কৌশলগত ভুল করেছে, যার খেসারত তাদের দীর্ঘদিন দিতে হতে পারে। যেই প্রত্যাবর্তনের আশা মহাগঠবন্ধনের ছিল, তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
বিহার নির্বাচনে কংগ্রেস “ভোট চুরি”কে বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছিল। প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগের দিন রাহুল গান্ধী এনডিএর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ এনেছিলেন। পরদিন দরভাঙায় “ভোট যাত্রা”-র মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মা-কে নিয়ে করা আপত্তিকর মন্তব্যকে বিজেপি বড় করে তুলে ধরে কংগ্রেসের কাছে ক্ষমা দাবি করে। এই বিতর্ক মহাগঠবন্ধনের জন্য ক্ষতির কারণ হয়েছে, এমনটাই দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
মহাগঠবন্ধন ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ইস্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অভিযোগ তুললেও বিষয়টি আদালতে যাওয়া মাত্রই বিরোধিতার ভাষা নরম হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ এই ইস্যুকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। সপা প্রধান অখিলেশ যাদবও এটিকে “মহাগঠবন্ধনকে হারানোর ষড়যন্ত্র” বলে অভিযোগ করেন, কিন্তু জোটের কৌশল কার্যকর হয়নি।
একদিকে ছিল নীতীশ কুমারের দুই দশকের কাজের গ্যারান্টি, অন্যদিকে তেজস্বীর নানা অযৌক্তিক প্রতিশ্রুতি। তেজস্বী প্রতিটি পরিবার থেকে একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, জীবিকা দিদিদের ৩,০০০ নয় ১০,০০০ টাকা দেওয়ার কথাও বলেন। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবে অসম্ভব মনে করেই জনগণ অবিশ্বাস প্রকাশ করেছে। স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার খোঁজে ভোটাররা এনডিএকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
পুরো নির্বাচন জুড়ে মহাগঠবন্ধন এনডিএর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক এবং নেতিবাচক প্রচার চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে “দুর্নীতির ভীষ্ম পিতামহ” বলা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটাররা এই অতিরিক্ত নেতিবাচক রাজনীতি ভালোভাবে নেয়নি। বিশেষ করে যখন নীতীশ কুমার দুই দশক ধরে স্থিতিশীল প্রশাসনের মুখ, তখন এই কৌশল বিপক্ষ জোটেরই ক্ষতি করেছে।
মহাগঠবন্ধন তেজস্বী যাদবকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ করে লড়াইয়ে নামে। কিন্তু বিজেপি–জেডিইউ জোট বারবার লালু প্রসাদের “জঙ্গলরাজ”–এর সময়কার পরিস্থিতি স্মরণ করিয়েছে। তেজস্বীর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে সেই অতীতের ছাপ এখনও ভারী হয়ে থেকেই যায়। ফলে ভোটাররা ঝুঁকি না নিয়ে এনডিএকেই নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মহাগঠবন্ধনের ভুল সিদ্ধান্ত, নেতিবাচক প্রচারণা এবং অবাস্তব প্রতিশ্রুতি একত্রে তাদের বড় ক্ষতি করেছে। অন্যদিকে সুশৃঙ্খল কৌশল, স্থিতিশীল মুখ এবং উন্নয়নভিত্তিক বক্তব্য এনডিএকে ২০২৫ সালের বিহার নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় এনে দিয়েছে।

