আগরতলা, ২২ অক্টোবর : দুই শিক্ষকের বদলির প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রছাত্রীরা। বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে ক্লাস বয়কট করে আন্দোলনে সামিল হয়েছে জোলাইবাড়ী রামরাইবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। ওই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় শিক্ষক প্রমোদ রঞ্জন ভৌমিক ও জয়ন্ত মজুমদারের বদলির আদেশ জারির পর। দুই শিক্ষকই দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন এবং ছাত্রছাত্রীদের অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। বদলির খবর পেয়ে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে রাখার দাবিতে আন্দোলনে নামে ছাত্রছাত্রীরা। প্রথম দফায় ছাত্রছাত্রীর জোলাইবাড়ী–ঋষ্যমুখ সড়কে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভে নামে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা ওই অবরোধ স্থানীয় স্কুল পরিচালন কমিটির হস্তক্ষেপে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। কমিটি আশ্বাস দেয়, সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
কিন্তু বুধবার বিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রছাত্রীরা দেখতে পায় নতুন শিক্ষক যোগ দিয়েছেন এবং বদলিকৃত প্রিয় দুই শিক্ষক অন্যত্র চলে গেছেন। বিষয়টি জানার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রছাত্রীরা। এরপর তারা পুনরায় বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে ক্লাস বয়কট করে বিক্ষোভ শুরু করে।
ছাত্রছাত্রীরা অভিযোগ করেন, আন্দোলনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। কিন্তু এক সরকারি আধিকারিক তাদের ‘সিপিআইএম’ সমর্থক বলে অপমান করেছেন। তারা বলেন, “আমরা ন্যায়সঙ্গত দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি। আন্দোলন করলেই যদি সিপিআইএম হতে হয়, তবে সেটা অস্বাভাবিক। শিক্ষকদের জন্য আওয়াজ তোলা আমাদের অধিকার।”
এছাড়াও ওই আধিকারিক মন্তব্য করেছেন, ছাত্রছাত্রীদের পিতামাতার দেওয়া টাকায় শিক্ষকদের বেতন হয় না। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় ছাত্রছাত্রীরা। তারা বলেন, আমাদের মা-বাবা যদি শিক্ষকদের বেতন দিতেন, তবে আমরা সবাই শহরের নামীদামী স্কুলে পড়তাম, গ্রামের স্কুলে নয়।
পড়ুয়ারা অভিযোগ করেন, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের পুলিশ ভয় দেখায়। জোলাইবাড়ী ফাঁড়ির ওসি খোকন দাস ও বাইখোড়া থানার ওসি বিষ্ণু চন্দ্র দাস নাকি জানান, আন্দোলন চালিয়ে গেলে বহিষ্কার করা হবে, এমনকি লাঠিচার্জও করা হতে পারে।
এই ধরণের মন্তব্যে আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয় ছাত্রছাত্রীরা। তাদের প্রশ্ন, যদি ওসি মহাশয়দের সন্তানরাও গ্রামের এই বিদ্যালয়ে পড়ত, তাহলে কি তারাও এমন মন্তব্য করতেন? ছাত্রদের দাবি, শহরের নামীদামী স্কুলে নিজের সন্তানদের পাঠিয়ে, তারা এখন গ্রামের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের পথে ঠেলছেন।

