নয়াদিল্লি, ২০ অক্টোবর : দীপাবলির উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেও জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমেই উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ জানিয়েছে, সোমবার অক্ষরধাম মন্দিরের কাছে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে ৪১১-এ, যা ‘গুরুতর’ শ্রেণিভুক্ত।
বায়ু মান রক্ষা কমিশন রবিবারই জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান বা জিআরএপি-এর দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর করেছে, যাতে রাজধানীর বায়ুমান আরও অবনতি না ঘটে।
সিপিসিবি-র তথ্য অনুযায়ী, রবিবার বিকেল ৪টার সময় জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম এলাকায় একিউআই ছিল ৩৫২ এবং গোটা দিল্লির গড় একিউআই ছিল ২৯৬—যা ‘খারাপ’ স্তরে টানা কয়েক দিন ধরে অবস্থান করছে।
সিএকিউএম তাদের নির্দেশিকায় জানিয়েছে, “জিআরএপি-এর প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের সমস্ত পদক্ষেপ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, নজরদারি ও পর্যালোচনা করতে হবে এনসিআর অঞ্চলের সব সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে, যাতে বায়ুমান আরও না নেমে যায়।”
দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। স্টেজ২-এর অধীনে দৈনিক যান্ত্রিক ও ভ্যাকুয়াম সাফাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে নির্দিষ্ট রাস্তা ও দূষণপ্রবণ এলাকায়। পাশাপাশি ধুলো দমনকারী রাসায়নিক ব্যবহার করে নিয়মিত জল ছিটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংগ্রহ করা ধুলো নির্ধারিত স্থানে ফেলারও নির্দেশ জারি হয়েছে।
এছাড়া বেসরকারি গাড়ির ব্যবহার কমাতে পার্কিং ফি বাড়ানো, বাস ও মেট্রো পরিষেবার ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো এবং ডিজেল জেনারেটরের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ যাতে নির্বিঘ্ন থাকে, তারও নিশ্চয়তা দিতে বলা হয়েছে।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন, সিগন্যাল সিঙ্ক্রোনাইজেশন এবং সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে (পত্রিকা, টিভি, রেডিও) জনগণকে দূষণ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জি আর এ পি-এর দ্বিতীয় ধাপ অনুযায়ী, নির্মাণ ও ভাঙচুরস্থলে ধুলা নিয়ন্ত্রণের নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং বাড়তি পরিদর্শনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর বায়ুমান দ্রুত অবনতির ফলে প্রশাসন এবং পরিবেশ সংস্থাগুলির মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, যদিও উৎসবের আমেজে এখনো শহর জুড়ে আলো ঝলমলে সাজসজ্জা অব্যাহত।

