কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উন্নয়নের জন্য কাজ করছে রাজ্য সরকার: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৯ অক্টোবর: কমিউনিস্ট ও কংগ্রেসের কাজই হচ্ছে উল্টাপাল্টা বলা ও মানুষকে বিভ্রান্ত করা। আর কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উন্নয়নের জন্য কাজ করছে রাজ্য সরকার। ত্রিপুরা এখন বিকাশের দিশায় এগিয়ে চলছে।

আজ আগরতলা টাউন হলে ভারতীয় জনতা পার্টি, ত্রিপুরা প্রদেশের উদ্যোগে আয়োজিত বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় কার্যক্রমে অংশ নিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ এই কার্যক্রমে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। পার্টি ছাড়া কিছু হবে না। পার্টির কার্যকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে একটা আত্মতৃপ্তি চলে আসে। আত্মবিশ্বাসও পাওয়া যায়। এধরণের সম্মেলন বা কার্যক্রম যত বেশি হবে ততই আমাদের মধ্যে ব্যবধানটা কমে যাবে। দুর্গাপুজোর সময়ে আমি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যাই। অনেক জায়গায় জনজাতি অংশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্গাপুজোর আয়োজন করে আসছেন। এই পুজো এখন জাতি জনজাতির পুজো হয়ে গেছে। পুজোকে সামনে রেখে আমাদের আর্থ সামাজিক অবস্থারও উন্নয়ন হয়। সেই সঙ্গে ত্রিপুরায় সাংস্কৃতিক উন্নয়নও পরিলক্ষিত হচ্ছে। ব্যবসা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরায় ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার চলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিক নির্দেশনায় আমরা রাজ্যের কল্যাণে কাজ করছি। যতক্ষন পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলা ঠিক না থাকবে ততক্ষণ ভালো কাজ করা যাবে না। তাই সরকার আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ঠিক রাখাকে অন্যতম অগ্রাধিকার দিয়েছে। দেশের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় নিচের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ত্রিপুরা। যদিও বিরোধীরা এনিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা কথা বলেন। যেকোন জায়গায় কোন সমস্যা হলে সাথে সাথেই পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। অথচ বামপন্থী ও কংগ্রেসীদের দীর্ঘ রাজত্বে রাজ্যে কি হয়েছে সেটা মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে।

বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, স্বচ্ছতার মাধ্যমে চাকরি প্রদান করছে বর্তমান সরকার। এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। চাকরির জন্য এই সরকারের আমলে নেতা মন্ত্রীদের পেছনে দৌড়াতে হয় না। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এই সরকার চাকরি দেয়। এই স্বচ্ছতার জন্য আজ দেশের প্রায় ২০টি রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার চলছে। আর কমিউনিস্ট ও কংগ্রেসের কাজই হচ্ছে উল্টাপাল্টা বলা ও মানুষকে বিভ্রান্ত করা। একটা নির্দিষ্ট কারণে তারা রাজনীতিতে আসেন। কিন্তু আমাদের সরকার গোটা রাজ্যে একটা সুন্দর পরিস্থিতি তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ২০১৪ সালের আগে দেশে কি অবস্থা ছিল এবং ১৪ এর পরে কি অবস্থা হয়েছে সেটা মানুষ দেখছেন। স্বচ্ছতার মাধ্যমেই সমস্ত কাজ হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উন্নয়নের জন্য কাজ করছে রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, জিএসডিপির ক্ষেত্রে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে আসামের পরেই রয়েছে ত্রিপুরা। বিভিন্ন প্যারামিটারের ভিত্তিতে ত্রিপুরাকে ফ্রন্ট রানার হিসেবে ঘোষণা করেছে নীতি অয়োগ। মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রেও উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে ত্রিপুরা।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।