তেলআবিব/গাজা/ওয়াশিংটন, ১৩ অক্টোবর — গাজার দুই বছর দীর্ঘ যুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে পৌঁছেছে মধ্যপ্রাচ্য। সোমবার হামাস ইজরায়েলের হাতে ২০ জন জীবিত জিম্মিকে হস্তান্তর করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছেন, এই ঘটনাকে আখ্যা দিয়েছেন “এক মহান দিন” হিসেবে এবং ঘোষণা করেছেন যে গাজার যুদ্ধ শেষ হয়েছে। ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার প্রথমে সাতজন এবং পরে আরও ১৩ জন জিম্মি ইজরায়েলের হাতে আসে। তেলআবিবের ‘হোস্টেজ স্কয়ার’-এ হাজার হাজার মানুষ এই খবরে উল্লাসে ফেটে পড়েন।
মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বার আব্রাহাম কুপারস্টেইন, এবিয়াতার ডেভিড, ইউসেফ-চাইম ওহানা, সেগেভ কালফন, আভিনাতান অর, এলকানা বোহবট, ম্যাক্সিম হারকিন, নিমরোদ কোহেন, মাতান অ্যাঙ্গরেস্ট, মাতান জানগাউকার, এতান হর্ন, এতান আব্রাহাম মর, গালি বারম্যান, জিভ বারম্যান, ওমরি মিরান, আলন ওহেল, গাই গিলবোয়া-দালাল, রম ব্রাসলাভস্কি, আরিয়েল কুনিও ও ডেভিড কুনিও। এদের তালিকা হামাস নিজেই প্রকাশ করেছে। এই হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ সম্পন্ন হলো, যা ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনারই অংশ।
ইজরায়েল থেকে বন্দি মুক্তির চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিনি বন্দিদেরও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, ইজরায়েলের বিভিন্ন কারাগার থেকে ফিলিস্তিনি বন্দিদের নিয়ে বাস গাজার দিকে রওনা দিয়েছে। রেড ক্রস এই বিনিময় প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান করেছে। নিমরোদ কোহেনের মা, ভিকি কোহেন বলেন, “আমি আনন্দে আপ্লুত। আমার অনুভূতি ভাষায় বোঝানো কঠিন। সারারাত ঘুমোতে পারিনি।”
অন্যদিকে, গাজার দক্ষিণে একটি হাসপাতালে রয়টার্সের ভিডিওতে দেখা যায়, বহু সশস্ত্র হামাস যোদ্ধা সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে একজন ছিলেন হামাসের এলিট ‘শ্যাডো ইউনিট’-এর সদস্য, যার দায়িত্ব ছিল জিম্মিদের রক্ষা করা। এই দৃশ্যকে অনেকে হামাসের শক্তির প্রকাশ হিসেবেও দেখছেন, যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, হামাসকে অবশ্যই নিরস্ত্র হতে হবে এবং গাজার নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে আসতে হবে।
ট্রাম্প এই মুহূর্তে ইজরায়েল সফরে রয়েছেন এবং কনেসেটে ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, “এটা এক মহান দিন। এটা একটি নতুন শুরু।” এরপর তিনি মিশরের শর্ম আল-শেখে যাচ্ছেন, যেখানে গাজার স্থায়ী শান্তি এবং পুনর্গঠন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে গত শুক্রবার থেকে, আর এই জিম্মি ও বন্দি বিনিময় তারই প্রথম ধাপ।
২০০৭ সাল থেকে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যখন তারা প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সরিয়ে দেয়। এখন ট্রাম্পের পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিয়ে আলোচনা হবে। দুই বছরের ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পরে, এই পদক্ষেপগুলো গাজায় একটি টেকসই শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে শান্তির এই পথে এখনও বহু চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

