উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বেগ, সিকিমের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে দায়ী করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

শিলিগুড়ি, ৮ অক্টোবর: উত্তরবঙ্গে ক্রমবর্ধমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রতিবেশী রাজ্য সিকিমের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি তিস্তা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে, যার ফলে জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তীব্র হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান অনেকটা নৌকার মতো। সিকিম বা নেপালে যখন বন্যা হয়, সেই জল স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দিকে নেমে আসে।” তিনি আরও বলেন, “সিকিমের বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি তিস্তায় জলপ্রবাহে বাধা দিচ্ছে, ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত হচ্ছে এবং প্লাবনের সৃষ্টি করছে।”

এদিন মুখ্যমন্ত্রী দার্জিলিং জেলার মিরিক এলাকায় ৪ অক্টোবরের ভারী বৃষ্টিপাতে হওয়া ভূমিধসের ক্ষয়ক্ষতির কথাও উল্লেখ করেন। এই বিপর্যয়ে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। মিরিকের পাশাপাশি দার্জিলিং ও কার্শিয়াংয়ের একাধিক এলাকায় ঘরবাড়ি ও সড়কপথের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি ঘোষণা করেন, যেসব পরিবারে সদস্যরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং প্রতিটি পরিবার থেকে একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পর্বতবাসীর এই কঠিন সময়ে সরকার তাদের পাশে রয়েছে। প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাহায্য ও পুনর্বাসন দেওয়া হবে।”

রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে দুর্গত এলাকায় পাঠিয়েছে। সংযোগ পুনরুদ্ধার, উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ বিতরণের কাজ জোরদারভাবে চলছে।

তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, তেরাই–ডুয়ার্স অঞ্চলের সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসকে রাজ্য সরকার ‘দুর্যোগ’ হিসেবে ঘোষণা করবে না। তিনি বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য এখন মানুষের পাশে থাকা, দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা। যাতে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়।”