কৈলাসহর, ৭ অক্টোবর : লক্ষ্মীপুজোর দিনে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ চরমে পৌঁছে গেল ঊনকোটি জেলার জেলাসদর কৈলাসহরের বুকে। গার্লস স্কুলের পিছনে সাত নম্বর ওয়ার্ডে এক মর্মান্তিক ঘটনায় ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত ব্যক্তি ৬৪ বছর বয়সী রনধীর পাল ওরফে শ্যামল পাল। অভিযুক্ত তারই ছোট ভাই সঞ্জীব পাল ও তাঁর স্ত্রী দীপ্তি পাল। এই ঘটনার জেরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সারাদিন বৃষ্টির ফলে বাড়ির উঠানে জল জমে যায়। বাজার থেকে ফিরে সেই জল নিজেই সরাতে নামেন রনধীর পাল। ঠিক সেই সময় সঞ্জীব পাল ও তার স্ত্রী দীপ্তি পাল এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে দুজন মিলে রনধীর পালের উপর চড়াও হন এবং বেধড়ক মারধর করেন। অভিযোগ, রনধীর পালের বুকে প্রচণ্ড আঘাত করা হয়, যার ফলে তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
রনধীর পালের ছেলে রাজীব পাল জানান, পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি করে তাঁকে ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরই কৈলাসহর থানায় সঞ্জীব পাল ও দীপ্তি পালের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ দ্রুত অভিযুক্ত দুইজনকেই গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
পরিবারের দাবি, দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ চলছিল। এমনকি বিষয়টি আদালতেও বিচারাধীন রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মৃত রনধীর পাল কিছুদিন আগে হার্ট সার্জারির মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। তাই বুকে মারাত্মক আঘাতই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ হতে পারে বলে অনেকের অভিমত। বর্তমানে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
শহরের বুকে এমন একটি নৃশংস ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন।

