আরজেডি আমলের দিনগুলো ভুলে যাওয়া উচিত নয়: বিহারে নারী কর্মসংস্থান যোজনার উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী মোদী

পাটনা, ২৬ সেপ্টেম্বর: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনীতির উত্তাপ তুঙ্গে। এরই মধ্যে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা”। এই উপলক্ষে তিনি নারী ক্ষমতায়নের প্রশংসা করলেও, বিরোধীদের, বিশেষত আরজেডি ও লালু প্রসাদ যাদবকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানালেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন,আমরা যেন ভুলে না যাই আরজেডি আমলের দিনগুলো। সেই সময় বিহারে ছিল বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি আর ভয়ের পরিবেশ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয়েছিল আমাদের মা-বোনদের।

তিনি “লণ্ঠন শাসন” বলে কটাক্ষ করে জানান, তখন বিহারে ছিল ভাঙা রাস্তা, ভেসে যাওয়া সেতু, দুর্বল বন্যা ব্যবস্থাপনা, আর গর্ভবতী মহিলারা হাসপাতালে পৌঁছতে পারতেন না জরুরি সময়ে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে মানুষের মনে সব সময় ভয় ছিল, নকশাল হিংসার চরমে ছিল বিহার। আজ, মেয়েরা নিশ্চিন্তে বাইরে বেরোতে পারে। আইন-শৃঙ্খলার ফিরতি সবচেয়ে বেশি উপকারে এসেছে মহিলাদের।

নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ বিহারের পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে বলে দাবি মোদীর। তিনি জানান, সরকারের সহায়তায় আজ বিহারের নারীরা স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে চলেছেন।

এই প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে ৭৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১০,০০০ করে হস্তান্তর করা হয়েছে, মোট ₹৭,৫০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সফল উদ্যোক্তারা ভবিষ্যতে ২ লক্ষ পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন।

নবরাত্রির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাই তখনই খুশি হয়, যখন বোন ভালো থাকে। বিহারের বোনদের জন্য কাজ করছে দুই ভাই — নরেন্দ্র ও নীতীশ। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পটি জন ধন যোজনার সাফল্য ছাড়া সম্ভব হতো না। ১১ বছর আগে যদি ৩০ কোটিরও বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না খোলা হতো, তবে কি আমরা আজ এত সহজে অর্থ পাঠাতে পারতাম? আগে দিল্লি থেকে ১ টাকা পাঠালে ০.১৫ পৌঁছাত গরিবের কাছে, আজ পুরো টাকা সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা কেন্দ্রের লক্ষপতি দিদি, মুদ্রা যোজনা, ড্রোন দিদি ও ইনস্যুরেন্স সখী-র মতো কর্মসূচিগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই নতুন প্রকল্প লক্ষপতি দিদি মিশনকে আরও শক্তিশালী করবে। ইতিমধ্যেই ২ কোটির বেশি দিদি লক্ষপতি হয়েছেন। আমাদের লক্ষ্য ৩ কোটি, বলেন প্রধানমন্ত্রী।