সেবা ও সুশাসনের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিরক্ষা খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা, বিশ্বে অন্যতম রফতানিকারক দেশ হওয়ার পথে ভারত

নয়াদিল্লি, ২৫ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার “সেবা পর্ব” বিশেষ ধারাবাহিকতায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্যের সাক্ষ্য দিচ্ছে। আত্মনির্ভরতার পথে অগ্রসর হয়ে ভারত আজ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের আমদানিকারক দেশ থেকে রফতানিকারক দেশে রূপান্তরিত হয়েছে।

গত এক দশকে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি ৩৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৩ হাজার ৬২২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। শুধু এই অর্থবছরেই ১,৭০০-র বেশি রফতানি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভারত ১০০টিরও বেশি দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ও আর্মেনিয়া অন্যতম। রফতানিকৃত সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, প্যাট্রোল বোট, হেলিকপ্টার, রাডার এবং টর্পেডোর মতো উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন সরঞ্জাম।

চলতি বছরের ৬ই জুন জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরায় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “গত ১০ বছরে ভারত এক বৃহৎ প্রতিরক্ষা রফতানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য বিশ্বের শীর্ষ রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ভারতের স্থান নিশ্চিত করা।”

আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে এগিয়ে চলা সরকারের অন্যতম প্রধান নীতি হল আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা নীতি। ২০১৬ সালের প্রতিরক্ষা ক্রয় নীতিকে সংশোধন করে ২০২০ সালে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চালু করা হয়। এই নীতি ‘বাই ইন্ডিয়ান –দেশীয়ভাবে ডিজাইন, ডেভেলপড এবং ম্যানুফ্যাকচার’ ক্যাটেগরিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়, যাতে দেশীয় প্রযুক্তি, নকশা ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পায়।

সরকারের এই দৃঢ় পদক্ষেপ প্রতিফলিত করে ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের সংকল্পকে, যেখানে প্রতিরক্ষা খাতেও ভারত হয়ে উঠছে আত্মনির্ভর, শক্তিশালী ও বৈশ্বিক নেতৃত্বে সক্ষম একটি জাতি।