৭ বছরে কৃষি বাজার উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে ৩০৩ কোটি টাকা : কৃষিমন্ত্রী

আগরতলা, ২৪ সেপ্টেম্বর : বর্তমান রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে, কৃষকদের কল্যাণ ও তাদের যথাযথ সম্মান প্রদানের জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ আজ রাজনগর বিধানসভা অন্তর্গত বড়পাথরীতে কৃষি পণ্য বাজারের নবনির্মিত বাজার ভবনের উদ্বোধনকালে এই কথা বলেন ।

মন্ত্রী জানান, এখন কৃষকদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে এবং তারা তাদের পণ্যের জন্য প্রকৃত মূল্য পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন বর্তমানে আমাদের ৫৫৪টি কৃষি বাজার রয়েছে, যার মধ্যে ৮৪টি পাইকারি বাজার এবং ২১টি কৃষি উৎপাদন বাজার। দক্ষিণ জেলায় তিনটি কৃষি উৎপাদন বাজার রয়েছে—বড়পাথরী, কলসি এবং শান্তিরবাজার। গত সাত বছরে বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে রাজ্যে ২০ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে, আর আমরা ক্ষমতায় আসার পর এই সাত বছরে ৩০৩ কোটি টাকা খরচ করেছি কৃষি বাজার উন্নয়নে। মোট ১৪৪টি বাজার স্থাপিত হয়েছে। কেউ বলতে পারবে না যে, এখানে কোন বাজার নেই। এটাই ‘সবকা সাথ সবক বিশ্বাস’। এই ২১টি কৃষি উৎপাদন বাজারকে ই-নাম প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। কৃষকরা তাদের পণ্য বাজারে রেখে অনলাইনে বিক্রি করতে পারবেন এবং যথাযথ মূল্য পাবেন। আমাদের আরও উন্নয়ন করতে হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, এই ২১টি বাজারের মধ্যে প্রায় ৭টি বাজার ইতিমধ্যেই ই-নাম প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেমন—পানিসাগর, পাবিয়াছড়া, কুলাই, তেলিয়ামুড়া, মোহনপুর, সোনামুরা এবং শান্তিরবাজার। বড়পাথরী, দসদা, কল্যাণপুর, বাছাইবাড়ি, চম্পকনগর, বিশালগড়, জম্পুইজলা, মেলাঘর, নতুন বাজার, গন্ডা তুইসা , ছামনু এবং গরজি বাজারে কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি জানান আগে কৃষকদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হতো না, কিন্তু এখন তা হচ্ছে। যদি আমাদের কৃষক না থাকতেন, আমরা কি খাদ্য পেতাম? কৃষকরা যেন ঈশ্বর। তাই আমরা তাদের সম্মান ও গুরুত্ব দিচ্ছি। আগে আমাদের দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল না, এবং বিদেশ থেকে শস্য আমদানি করতে হতো। কিন্তু এখন ভারত ধানের উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। আমরা ধান রফতানি করতে পারি, এবং এটি সম্ভব হচ্ছে কৃষকদের কারণে। কৃষি ও কৃষকই রাজ্য ও দেশের ভিত্তি। আগে মানুষদের বাড়ি দেয়া হতো না, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদীর আহ্বানে সবাইকে ঘর দেওয়া হয়েছে। এটাই ‘সবার সঙ্গে, সবার জন্য উন্নয়ন’, পানীয় জলের সুবিধাসহ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া, বিধায়িকা স্বপনা মজুমদার, সভাধিপতি দীপক দত্ত এবং অন্যান্যরা।