নয়াদিল্লি, ২৪ সেপ্টেম্বর: সেবা ও সুশাসনের মন্ত্রে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত সরকার দেশের প্রযুক্তি কাঠামোকে নতুন দিশা দেওয়ার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় ‘সেবা পর্ব’ বিশেষ সিরিজে কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য ভারতকে প্রস্তুত করছে, তা তুলে ধরা হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে মোদি সরকার অনুমোদন দেয় ‘ইন্ডিয়াএআই মিশন’-এর, যার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে ১০,৩৭১ কোটি টাকা।
ইন্ডিয়াএআই মিশনের লক্ষ্য হল ভারতকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বে অন্যতম নেতৃত্বস্থানে পৌঁছে দেওয়া। এই মিশনের আওতায় দেশজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশাল কম্পিউটিং ক্যাপাসিটি, উদ্ভাবন কেন্দ্র, স্টার্টআপ সহায়তা প্ল্যাটফর্ম, এবং উন্নতমানের ডেটাসেট। একই সঙ্গে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য এআই ব্যবহারের ওপর, যাতে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করা যায়। তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, ভারত বিশ্বে সবচেয়ে সাশ্রয়ী সাধারণ কম্পিউটিং সুবিধা চালু করেছে, যা সকলের জন্য উন্মুক্ত।
ইন্ডিয়াএআই মিশন প্রযুক্তিকে গণমানুষের নাগালে এনে তাকে ক্ষমতায়নের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এই প্রকল্প কেবল প্রযুক্তি উন্নয়নের একটি পদক্ষেপ নয়, বরং একটি সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি—যার মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকসিত ভারত’ গড়ার ডিজিটাল ভিত শক্তিশালী করা হচ্ছে। এআই-র ব্যবহার কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, উৎপাদন, নিরাপত্তা ও প্রশাসনের মতো খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইন্ডিয়াএআই মিশন এই মুহূর্তে ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর রূপান্তরের চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। বিশ্বে এআই-র দ্রুত বিকাশের যুগে ভারত যাতে পিছিয়ে না পড়ে বরং নেতৃত্ব দেয়, সে লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে এই মিশন। ‘ইন্ডিয়াএআই’ একদিকে যেমন ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে ডিজিটাল ভারতকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে—একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, দক্ষ এবং আত্মনির্ভর প্রযুক্তি ব্যবস্থার ভিত্তিতে।
