এস. জয়শঙ্করের নেতৃত্বে নিউ ইয়র্কে গ্লোবাল সাউথ-এর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ওপর জোর

নিউ ইয়র্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের উদ্যোগে “সমমনা গ্লোবাল সাউথ” দেশগুলোর উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সংহতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক পরিসরে সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। জলবায়ু ন্যায়বিচার, ডিজিটাল প্রযুক্তির উন্নয়ন, এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলি এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, “যেহেতু বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বহু সমস্যা ও বিপদের সৃষ্টি হয়েছে, তাই গ্লোবাল সাউথ-এর দেশগুলোর জন্য বহুপাক্ষিকতার ওপর নির্ভর করাটাই স্বাভাবিক।” তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা জোরদার করতে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং পারস্পরিক সাফল্য ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে হবে। ভারত যেমন টিকা উৎপাদন, ডিজিটাল প্রযুক্তি, শিক্ষা, কৃষি চর্চা ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প সংস্কৃতিতে অভিজ্ঞ—তা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের কাজে লাগতে পারে।

জয়শঙ্কর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গ্লোবাল সাউথ-এর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “জলবায়ু অ্যাকশন ও ক্লাইমেট জাস্টিসে এমন উদ্যোগ দরকার, যা গ্লোবাল সাউথ-এর বাস্তব প্রয়োজন মেটাবে, গ্লোবাল নর্থ-এর ব্যর্থতাকে নয়।” কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-র সম্ভাবনাও এই আলোচনায় গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও মন্ত্রী নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারী, ইউক্রেন ও গাজা সংঘাত, চরম জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্যে অস্থিরতা, বিনিয়োগ প্রবাহে অনিশ্চয়তা এবং সুদের হারের ওঠানামার ফলে গ্লোবাল সাউথ আজ এক জটিল পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে। “বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা হ্রাস পাচ্ছে, অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক অনটনে ভুগছে, এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক শৃঙ্খলার ভিত নড়বড়ে হয়ে উঠেছে,”—বলেন জয়শঙ্কর।

তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে আরও ন্যায্য ও স্বচ্ছ অর্থনৈতিক চর্চার পক্ষে সওয়াল করেন এবং বলেন, শক্তিশালী দক্ষিণ-দক্ষিণ বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা ছাড়াও, নির্ভরযোগ্য এবং সংক্ষিপ্ত সাপ্লাই চেন তৈরি করতে হবে, যাতে কোনও একটি দেশ বা বাজারের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা না থাকে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার গঠনের ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।

বৈঠকের ফাঁকে জয়শঙ্কর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান, সেন্ট লুসিয়ার আলভা ব্যাপটিস্ট, মরিশাসের রীতিশ রামফুল এবং নেদারল্যান্ডসের ডেভিড ভ্যান ওয়েলের সঙ্গে। এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আন্তর্জাতিক পরিসরে গ্লোবাল সাউথ-এর দেশগুলোর অভিন্ন অবস্থান ও স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।