বিজেপির অনুষ্ঠানে তিপ্রা মথার হামলা, আহত জনজাতি মোর্চার ভাইস প্রেসিডেন্ট মঙ্গল দেববর্মা সহ একাধিক কর্মী

আগরতলা, ২১ সেপ্টেম্বর: ফের শরিকদলের হামলায় গুরুতর আহত বিজেপি কর্মী। হেজামারা কমিউনিটি হলে এক অনুষ্ঠানে হামলার অভিযোগ উঠেছে তিপ্রা মথার বিরুদ্ধে। এই অনুষ্ঠানেই সাংসদ বিপ্লব কুমার দেবের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। ঘটনায় রক্তাক্ত হয়েছেন জনজাতি মোর্চার ভাইস প্রেসিডেন্ট মঙ্গল দেববর্মা সহ একাধিক কর্মী। বর্তমানে তারা জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত হয়েছেন একজন সাংবাদিকও।

ঘটনার বিবরনে আহত মঙ্গল দেববর্মা জানিয়েছেন, আজ শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে হেজামারা কমিউনিটি হলে মহিলাদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল সাংসদ বিপ্লব কুমার দেবেরও। দুপুর ১২:৩০ টা নাগাদ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎই দুপুর প্রায় বারোটা নাগাদ তিপ্রা মথার কর্মী সমর্থকরা হেজামারা কমিউনিটি হলে আক্রমণ চালায়। তারা ধারালো অস্ত্রসহ লাঠিসোটা নিয়ে কমিউনিটি হলে উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের ওপর আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ করেছেন মঙ্গল দেববর্মা।

তিনি জানান, অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কমিউনিটি হলে ঢুকে বিজেপি কর্মীদের মারধর করা হয়।। ঘটনায় মঙ্গল দেববর্মার মাথা ফেটে যায়। গুরুতর আহত হন তিনি। এছাড়াও আরও পাঁচ থেকে সাত জন বিজেপি কর্মী এই হামলায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে মঙ্গল দেববর্মা গুরুতর আহত অবস্থায় জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে ঘটনায় খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে গেছেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। আহতদের দেখতে এছাড়াও হাসপাতালে যান প্রদেশ সভাপতি তথা রাজ্যসভা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য মহোদয়, প্রদেশ প্রভারী ডাঃ রাজদ্বীপ রায় এবং ত্রিপুরা-আসামের সংগঠন মন্ত্রী রবীন্দ্র রাজু। প্রত্যেকেই এই ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মনও। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “যদি সহিংসতা ও ঘৃণা কোনো সম্প্রদায়ের সমস্যার সমাধান করতে পারত, তবে অনেক আগেই বিদ্রোহ ও দাঙ্গা আমাদের মানুষের জীবনকে সমাধান করে দিত। যারা সহিংসতায় লিপ্ত হয় তারা আসলে গুন্ডা ও অপরাধী। মনে রাখতে হবে, গুন্ডা ও অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক দল থাকে না, তারা কেবল নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য রাজনৈতিক পতাকা ব্যবহার করে। যতদিন আমরা কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতি অনুসরণ করব, ততদিন আমাদের রাজ্যে কোনো উন্নয়ন ঘটবে না।”

প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন সামাজিক মাধ্যমে এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে তিপ্রা মথা সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ির মাধ্যমে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করতে চাইছে।

বিজেপির সভায় শরিক দল তিপ্রা মথার হামলা নতুন নয়। এর আগেও আশারামবাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তখন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ফের পুনরায় এ ধরনের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। এখন প্রশাসন ও বিজেপি এই বিষয়ে আগামী কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেটাই দেখার।