নয়াদিল্লি, ২০ সেপ্টেম্বর: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় এইচ-১বি ভিসার বার্ষিক ফি ১ লাখ ডলার ধার্য করার সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীরা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতারা।
লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “এইচ-১বি ভিসা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কার্যত এই প্রোগ্রামকে মেরে ফেলারই নামান্তর। নতুন ফি একজন নবাগত এইচ-১বি ভিসাধারীর গড় বাৎসরিক আয়ের চেয়েও বেশি।”
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মার্কিন বাণিজ্য সচিব জানান, “এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন সংস্থাগুলো স্থানীয় কর্মীদের নিয়োগে উৎসাহিত হবে এবং কম দক্ষ বিদেশিদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন নিয়ম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং ১২ মাস বলবৎ থাকবে। তবে চাইলে এই মেয়াদ বাড়ানোও যেতে পারে। ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থার “পদ্ধতিগত অপব্যবহার” এবং “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি” বলেও অভিহিত করেছেন।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে কটাক্ষ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের শুভেচ্ছার বদলে আমেরিকা থেকে যে ‘রিটার্ন গিফট’ এল, তা ভারতীয় প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য এক বিশাল ধাক্কা। ৭০ শতাংশ এইচ-১বি ভিসাধারী ভারতীয় — তাদের ভবিষ্যতের উপরই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে।”
লোকসভায় কংগ্রেসের ডেপুটি লিডার গৌরব গগৈ বলেন, “এইচ-১বি সিদ্ধান্তে আমেরিকা ভারতের সেরা মেধা ও ভবিষ্যতের উপর আঘাত হেনেছে। আমি আজও মনে করি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সেই দৃঢ়তা, যখন এক মহিলা আইএফএস অফিসারকে অপমান করা হয়েছিল মার্কিন মাটিতে। এখন মোদীর কৌশলগত নীরবতা ও জাঁকজমকপূর্ণ ভাবমূর্তি ভারতের স্বার্থে ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা এক্স-এ লেখেন, “রাহুল গান্ধী ২০১৭ সালেই এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, আজ তিনি ফের প্রমাণ করলেন কতটা সঠিক ছিলেন। ৮ বছর কেটে গেলেও কিছুই বদলায়নি। আমরা এখনও এক দুর্বল প্রধানমন্ত্রীর হাতে বন্দি।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত কেবল কূটনৈতিক সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না, ভারতীয় আইটি ইন্ডাস্ট্রি ও অভিবাসী কর্মীদের উপরেও গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে। এখন দেখার বিষয়, মোদী সরকার এই ইস্যুতে আমেরিকার সঙ্গে কীভাবে আলোচনা চালায়।

