নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ সেপ্টেম্বর: দিল্লির যন্তরমন্তরে মঙ্গলবার তিপ্রা মথার ধর্না মঞ্চে দলের সুপ্রিমো ও রাজপরিবারের বংশধর প্রদ্যোৎ কিশোর মাণিক্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ধর্না সভায় প্রদ্যোৎ কিশোর দাবি করেন, “আগরতলার মালিক তিনিই”—এবং প্রসঙ্গক্রমে ইঙ্গিত দেন, পুরো রাজ্যের মালিকও তিনি। একইসঙ্গে আগরতলাবাসী, বিশেষত বাঙালিদের ‘ভাড়াটে’ বা ‘কিরায়দার’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
এই মন্তব্যের জেরে রাজ্য জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এর তীব্র সমালোচনা করেছে আমরা বাঙালি দল। সংগঠনগুলির অভিযোগ, স্বাধীনতার সঙ্গে সঙ্গেই রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়েছে। তাই এ ধরনের মন্তব্য সংবিধানবিরোধী এবং রাজ্যবাসী, বিশেষত বাঙালি সমাজকে অপমান করার শামিল। সংগঠনগুলির দাবি, ত্রিপুরা বহু দশক ধরে জাতি-জনজাতির মিলনস্থল। সেখানে আগরতলাবাসীকে ‘কিরায়দার’ বলা অত্যন্ত অপমানজনক।
আমরা বাঙালি দলের তরফে আরো বলা হয়, তিপ্রা মথার দিল্লি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির বাস্তবায়ন চাওয়া। প্রদ্যোৎ কিশোর দাবি করেন, চুক্তি অনুযায়ী ২৫টি আসন ও মুণিপুরী সম্প্রদায়ের জন্য ১টি আসন সংরক্ষণ করা হবে। সামনে এডিসি ভোট থাকায় আন্দোলনের মাধ্যমে দলের কর্মীদের চাঙ্গা করার লক্ষ্য নিয়েই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।
এই ধর্না সভায় বিজেপি সাংসদ কৃতি সিংও উপস্থিত ছিলেন এবং মঞ্চে উঠে তিপ্রা মথার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। বাঙালি সংগঠনগুলির অভিযোগ, এর আগেও ওই সাংসদ বাঙালিদের ‘রিফিউজি’ ও ‘বাংলাদেশি’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। একজন সাংসদ হয়ে বারবার এ ধরনের মন্তব্য রাজ্যে জাতি-উপজাতির বিভাজন বাড়াচ্ছে।
আমরা বাঙালি দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ইতিহাসে ত্রিপুরা রাজপরিবারের সঙ্গে সমতল ত্রিপুরার বাঙালিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। রাজপরিবারের আমন্ত্রণে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধিকবার ত্রিপুরায় এসেছিলেন। কিন্তু বর্তমান রাজনীতি জাতি-জনজাতির মধ্যে বিভেদ তৈরি করছে।
সংগঠনগুলি মনে করছে, এই পরিস্থিতি কোনো একক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়; বরং ত্রিপুরার বাঙালি সমাজের অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন। তাদের বক্তব্য—“দশক ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসলেও বাঙালিদের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়নি। তাই বাঙালি আন্দোলন সময়ের দাবি।”

