নয়াদিল্লি, ৩ সেপ্টেম্বর: নয়াদিল্লির যশোভূমি কনভেনশন সেন্টারে আজ সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৫-এর দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেমিকন্ডাক্টর খাতের বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞ ও শিল্প নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন। তিনি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন এবং চিপ ডিজাইন, উৎপাদন, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে আজই প্রধানমন্ত্রী মোদী সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে আন্তর্জাতিক সিইওদের সঙ্গে রাউন্ডটেবিল বৈঠকে বসেন, যেখানে ভারতকে একটি পূর্ণাঙ্গ সেমিকন্ডাক্টর হাব হিসেবে গড়ে তোলার রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তেল ছিল ব্ল্যাক গোল্ড, এখন চিপ হল ডিজিটাল হিরা।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বিশ্ব ভারতকে বিশ্বাস করছে, এবং ভারতের সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রস্তুত।”
প্রধানমন্ত্রী মোদী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেছিলেন আগের দিন। তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হল ভারতকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সাপ্লাই চেইনে একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। সম্মেলনে ডিজাইন, ম্যানুফ্যাকচারিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বিনিয়োগ, গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে ভারতে ১০টি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প চালু রয়েছে, যেখানে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি (প্রায় ১.৫ লক্ষ কোটি টাকা)। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে শুধু ব্যাকএন্ড নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রন্ট-টু-ব্যাক সিস্টেমে পরিণত হচ্ছে বলে জানান মোদী।
সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৫ সম্মেলনে ৪৮টি দেশের ২,৫০০-রও বেশি প্রতিনিধি, ১৫০-র বেশি বক্তা এবং ৩৫০-র বেশি প্রদর্শক অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে উপস্থিত থাকছেন প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বৈশ্বিক নেতৃত্ব, উদ্ভাবক, গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং স্টার্টআপ প্রতিনিধি—যাঁরা ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য এক ছাদের নিচে একত্রিত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী আশা প্রকাশ করেন, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার যেটি ইতিমধ্যে ৬০০ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে এবং আগামী দিনে যা ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, সেই বাজারে ভারত একটি বড় অংশীদার হবে। তিনি বলেন, “ভারতের ছোট চিপ বিশ্বে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”
সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৫-এর মতো উদ্যোগ ভারতের আত্মনির্ভর প্রযুক্তি পরিকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি, বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্বে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।






