ত্রিপুরার উন্নয়নের মূল ভিত্তি হল কৃষকরা: মন্ত্রী রতনলাল নাথ

আগরতলা, ২ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরার উন্নয়নের মূল ভিত্তি হল কৃষকরা। বর্তমান রাজ্য সরকার কৃষি, পর্যটন এবং সংশ্লিষ্ট খাত যেমন সোলার ও বনসম্পদকে কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়ন সাধনের পরিকল্পনা করছে, যা পুরো রাজ্যকে উপকৃত করবে।
আজ ফটিকছড়ার চা বাগানে পামওয়েল রোপণের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে একথা বলেন মন্ত্রী রতন লাল নাথ।

মন্ত্রী বলেন,আমাদের দেশ বর্তমানে ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় , ফলে তা অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যায়। এজন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বনির্ভর হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকরা ত্রিপুরার উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষি, পর্যটন, হর্টিকালচার, মৎস্য, কৃষি-সহায়ক খাত, সৌরশক্তি ও বনসম্পদকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে। এগুলি ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকার আসার আগে প্রতি ব্যক্তির গড় আয় ছিল ১.৪০ লক্ষ টাকা, যা এখন বেড়ে ১.৯৮ লক্ষ টাকা। আগামী পাঁচ বছরে প্রতি ব্যক্তির আয় ২০৩০ সালের মধ্যে ৩.৭০ লক্ষ টাকা এবং ২০৪৭ সালে ১৯.৮৬ লক্ষ টাকা হবে। আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পাবে। আমরা চাই কৃষকের ও স্থানীয় মানুষের আয় দ্বিগুণ হোক।

তিনি আরো জানান, দক্ষিণ ভারতে ভালো পামওয়েল চাষ হয়, এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের মাটি এই চাষের জন্য খুবই অনুকূল। এজন্য গোডরেজ অগ্রোভেট ও পতঞ্জলি–এর সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। গোডরেজ উত্তর, উনকোটি ও ধলাই জেলায় কাজ করবে, আর পতঞ্জলি খোয়াই, পশ্চিম, গোমতী, দক্ষিণ ও সিপাহীজলা জেলায় কাজ করবে। তারা চারা বিতরণ ও প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপন করবে।

মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী দুটি কোম্পানি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পামওয়েল চারা উৎপাদনের জন্য নার্সারি স্থাপন করবে এবং জেলা পর্যায়ে বিশেষ কারখানা গড়ে তুলবে। রাজ্যের কৃষকরা উৎপাদিত পামওয়েল সরাসরি তাদের ফার্ম গেট থেকে বিক্রি করতে পারবেন। এছাড়া কৃষকদের সহায়তার জন্য কমপক্ষে একটি “ওয়ান-স্টপ সলিউশন সেন্টার” স্থাপন করা হবে।