আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই দেশের সার্বভৌমত্বের ভিত্তি: প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ

নয়াদিল্লি, ৩১ আগস্ট: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা এখন শুধু একটি বিকল্প নয়, বরং দেশকে টিকে থাকার ও অগ্রগতির অপরিহার্য শর্ত—এমনটাই জানালেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। গতকাল দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক প্রতিরক্ষা কনক্লেভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “আত্মনির্ভর ভারতই কেবল আমাদের কৌশলগত স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে পারে।”

অপারেশন সিন্ধুর সাফল্য তুলে ধরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানান, এটি দেশের ক্রমবর্ধমান দেশীয় প্রতিরক্ষা ক্ষমতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি বলেন, “পাকিস্তানি লক্ষ্যবস্তুতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সুনির্দিষ্ট আঘাত, যা দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে করা হয়েছে, প্রমাণ করে—দূরদৃষ্টি, দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি এবং সমন্বয় ছাড়া কোনও অভিযান সফল হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, “অপারেশন সিন্ধুর হয়তো কয়েক দিনের যুদ্ধ মনে হতে পারে, কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে বহু বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি রয়েছে। সেনাবাহিনীর কঠোর পরিশ্রম এবং দেশীয় অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীলতা এই অভিযানকে সফল করেছে।”

সুদর্শন চক্র মিশন প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি “গেম-চেঞ্জার” প্রমাণিত হবে। এই মিশনের লক্ষ্য—দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিকে সম্পূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা প্রদান করা, যেখানে প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—উভয় প্রযুক্তির সমন্বয় থাকবে। অপারেশন সিন্ধুর অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে বায়ু প্রতিরক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনাথ সিংহ আরও জানান, এই মাসেই ডিআরডিও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ইন্টিগ্রেটেড এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সফলভাবে পরীক্ষা করেছে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন পূরণের পথে প্রথম ধাপ।

তিনি আরও ঘোষণা করেন, ভারত সরকার শক্তিশালী দেশীয় অ্যারো-ইঞ্জিন তৈরির লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে দেশের সমস্ত যুদ্ধজাহাজ ভারতে নির্মিত হচ্ছে। এরই মধ্যে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম সমৃদ্ধ আইএনএস হিমগিরি এবং আইএনএস উদয়গিরি-র কমিশনিং হয়েছে, যা ভারতীয় নৌবাহিনীর আত্মনির্ভরতার প্রতিশ্রুতিকে দৃঢ় করে।